দীর্ঘ ৩৫ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল বুধবার (২৮শে অক্টোবর) থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিলেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন তারা। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের প্রতি অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া এবং উপাচার্য ভবনে তালা বহাল রাখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনকারীরা।
দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেশনজট ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ক্লাসে ফেরা মানে আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে আবারো সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে রোববার শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দেন শিক্ষার্থীরা। এতে দ্রুত ক্লাসে ফেরার পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষকদের সহযোগিতা চান তারা। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় একাডেমিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরতে চান। তবে দাবি আদায়ের আন্দোলনও চালিয়ে যাবেন। শিক্ষার্থীদের এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করা হয়। পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ এসোসিয়েশনের যৌথ বিবৃতিতে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, নবনিযুক্ত উপাচার্যের প্রতি অসহযোগ ও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল রেখেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করবেন।
কোন বিভাগে কবে ক্লাস শুরু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান ও ইনস্টিটিউট পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান নাফি যুলক্বার নাঈন মিহাদ বলেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে চান। তবে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে আসবেন না। উপাচার্য ভবনে তালা বহাল থাকবে। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে ইউজিসি’র গঠিত ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি আগামী বুধবার চুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন কমিটির সদস্যরা। একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং চলমান সংকটের সমাধানে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেয়া হবে।
গত ২১শে সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে যোগ দেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গত ১২ই অক্টোবর উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর আন্দোলনরতদের অবরোধে প্রায় ৩০ ঘণ্টা আটকে থাকেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। পরে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে সেখান থেকে বের করা হয়। এ ঘটনার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তী সময়ে ইউজিসি ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করে।
