কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ বিরুদ্ধে সোমবার ভারত জুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে বিজেপি। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, পটনা, লখনউ, জম্মু-সহ বিভিন্ন শহরে একযোগে চলেছে বিক্ষোভ। উঠেছে খাড়গের অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি।
ভারতে যখন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে ঠিক তখন কংগ্রেস সভাপতির মন্তব্য অন্য মাত্রা যোগ করেছে। রোববার পাটনার এক সভায় কংগ্রেস সভাপতি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি কী কী মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কীভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছেন, প্রতিষ্ঠান দুর্বল করছেন, তা জানিয়ে তিনি বলেন, এসআইআরে যারা কারচুপি করেছে কংগ্রেস তাদের জেলে পাঠাবে। মোদিকেও জেলে পাঠানো হবে।
খাড়গের কথার মাঝেই সভা থেকে এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, ‘মোদি নেহি যায়েগা’ (মোদি ক্ষমতাচ্যুত হবেন না)। ওই মন্তব্য শুনে নম্র ও মৃদুভাষী খাড়গে মেজাজ হারিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওই তরুণের উদ্দেশে বলেন, ‘মোদি কা বাপ ভি যায়েগা (মোদির বাপও যাবে), বাপ ভি যায়েগা।’
খাড়গের ভাষণে বাধা দেয়া ওই তরুণকে কংগ্রেস কর্মীরা সভা থেকে বের করে দেন। অভিযোগ, তাকে মারধরও করা হয়েছে। তরুণের নাম সন্তোষ কুমার। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমাকে ভুল বোঝা হয়েছে। আমি বলেছি, এত সহজে মোদি যাবেন না। তাকে সরাতে গেলে বিদ্রোহ করতে হবে।
এদিকে প্রবীণ কংগ্রেস নেতার ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পরেই বিরোধী শিবিরের ‘রুচিবোধ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিজেপি। কংগ্রসকে একহাত নিয়ে অমিত শাহের দাবি, শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন খাড়গে।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক ‘দেউলিয়াপনা’ নিয়ে তোপ দেগেছেন নিতিন নবীনও। নিন্দায় সরব হয়েছেন বিজেপির প্রথম সারির সব নেতা। তবে বিজেপির এই দেশ জুড়ে বিক্ষোভের মাঝে পাল্টা মুখ খুলেছে কংগ্রেসও।
এই বিতর্কে খাড়গে এখনও কোনও মন্তব্য না করলেও তার পুত্র তথা কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গে প্রতি-আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি’কে। তার দাবি, বিজেপি অকারণে কোনও বিষয়কে বড় করে দেখাতে ভালবাসে।
খাড়গে পুত্রের বক্তব্য, এই ‘সংস্কৃতিবান’ মানুষেরা ভুলে গেছে অতীতে মোদি-শাহ কী বলেছেন। তাদের কাছ থেকে সংস্কৃতি শেখার কোনও প্রয়োজন নেই আমাদের।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক আরজেডির সাংসদ মনোজ ঝা-ও মুখ খুলেছেন এই বিতর্কে। খাড়গের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত ছিল না জানিয়ে তিনি অতীতে খাড়গে এবং সনিয়া গান্ধীর মতো শীর্ষ কংগ্রেস নেতাদের বিঁধে বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
আরজেডি সাংসদ বলেছেন, বেছে বেছে ক্ষোভ প্রকাশ করা উচিত নয়। অতীতে যখন সোনিয়া গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা মন্তব্য করেছিলেন, তখন তো এমন ক্ষোভ আমি দেখিনি।
এদিকে, ২০১৮ সালে অমিত শাহকে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে মানহানির মামলায় ‘নির্দোষ’ সাব্যস্ত হয়েছেন রাহুল গান্ধী।
