এক ম্যাচেই ৯ গোল! ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে এমন দুঃস্বপ্নের পর বাংলাদেশের রক্ষণভাগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আসিয়ান কাপে তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। চোটের কারণে সেই আসরে না খেললেও দলের ব্যর্থতা ভুলতে পারেননি ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। তার বিশ্বাস, দলগতভাবে রক্ষণ সামলাতে পারলে প্রতিপক্ষের গোল উৎসব আর দেখতে হবে না বাংলাদেশকে।
অন্যদিকে প্রথমবার জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়ে সাফ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাহি খান। শৈশবের আইডল হামজা চৌধুরীর সঙ্গে একই দলে খেলার সম্ভাবনাও তাকে রোমাঞ্চিত করছে।
আগামী ৫ই নভেম্বর ঢাকায় শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ঘরের মাঠের এই প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে রোববার থেকে আবাসিক ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন ২৩ ফুটবলার।
অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাফে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানান তপু। চোটের কারণে আশিয়ান কাপে খেলতে না পারলেও সাফে সতীর্থদের রক্ষণ সামলাতে সাহায্য করতে চান এই সেন্টারব্যাক। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো। পেছন থেকে কীভাবে খেলতে হবে, কীভাবে রক্ষণভাগকে শক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আমার ভূমিকা থাকবে। আমি সতীর্থদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করবো।’ আট বছর পর দেশের মাটিতে সাফের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর সুযোগও এবার। তপু বলেন, ‘সাফ আমাদের জন্য অনেক বিশেষ।
আট বছর পর আবার নিজেদের মাঠে খেলছি। আমাদের লড়াই করতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, অর্থাৎ ২৩ বছর পর শিরোপা জিততে হবে। সে জন্য আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’ শিরোপা অভিযানে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ভুটান। ৫ই নভেম্বরের সেই ম্যাচে হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলীকে পাবে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে হামজার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দলগত পারফরম্যান্সে সেই ঘাটতি পূরণ সম্ভব বলে মনে করেন তপু। তিনি বলেন, ‘হামজা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। প্রথম ম্যাচে সে না থাকলে অবশ্যই তাকে মিস করবো। তবে আমরা যদি দলগতভাবে খেলতে পারি, তাহলে তার অনুপস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব। প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো শুরু করতে পারলে পরের পথ সহজ হবে।’ এদিকে প্রথমবার সিনিয়র জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়ে উচ্ছ্বসিত মাহি।
বাংলাদেশের আক্রমণভাগে কার্যকর নম্বর নাইন বা স্ট্রাইকারের অভাব পূরণের আশায় কোচ থমাস ডুলি তাকে দলে ডেকেছেন। নিজের সামর্থ্য প্রমাণে প্রস্তুত এই তরুণ। মাহি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি নিজে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি আমার পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাআল্লাহ্ আমরা সাফ শিরোপাও জিতবো।’ গোল করার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী মাহি। ক্যাম্পে আসার আগে ব্যক্তিগতভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কোচের পরিকল্পনা মাঠে শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারলে গোল পাওয়ার আশা করছেন।
উজবেকিস্তানে অনূর্ধ্ব-২০ দলের সফরে প্রত্যাশামতো খেলতে না পারলেও সেখানকার অভিজ্ঞতা সিনিয়র দলে কাজে লাগাতে চান তিনি। তবে মাহির কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হামজার সঙ্গে একই দলে খেলার সম্ভাবনা। ছোটবেলা থেকেই লেস্টার সিটিতে হামজার খেলা দেখে বড় হয়েছেন তিনি। মাহি বলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকে যাকে দেখে বড় হয়েছি, এখন তার সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ এসেছে- এটি আমার জন্য বিশাল এক সম্মানের ব্যাপার। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবো, তাই আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’ বাংলাদেশের লক্ষ্য ২৩ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানো, আর মাহির লক্ষ্য নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়া। সাফ তাই এই তরুণ ফরোয়ার্ডের জন্য নিজেকে চেনানোর বড় মঞ্চ।
