ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হচ্ছেন বিএনপি’র এলিজা জামান। সোমবার এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ হলে এবং শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী থাকলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন এলিজা। সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে দল ও জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে এলিজা জামান দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এলিজা জামান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র রাজনীতিতেও সক্রিয়। তিনি জেলা বিএনপি’র প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা। এ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৭০ জন নারী। তাদের মধ্যে ৬৮ জন আবেদন জমা দেন। গত ১৯শে অক্টোবর বিএনপি’র চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার শেষে এলিজা জামানকে চূড়ান্ত প্রার্থী করে দলটি। এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন এলিজা জামান। তবে সেবার দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পিরোজপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন। এবার সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেন তিনি। এলিজার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। তার বাবা সরদার সুলতান মাহমুদ সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন। গত ১লা অক্টোবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। একইদিনে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে শূন্য আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১লা নভেম্বর। ২রা নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর আগামী ১২ই নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। তবে এ আসনে বৈধ প্রার্থী একজন থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রয়োজন হবে না।
