একজন হালিমার বাঁচার লড়াই

একজন হালিমার বাঁচার লড়াই

ফন্ট সাইজ:

হালিমা খাতুন। বয়স ৩৫। রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তির বাসিন্দা। অসুস্থ স্বামী, মেয়ের দায়িত্ব আর ঋণের বোঝা; সব সামলে জীবিকার জন্য লড়ছেন হালিমা। সন্তানদের খরচ জোগাতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের পাশাপাশি রিকশা চালান তিনি। অভাবের সংসারেও স্বপ্ন দেখেন, দুই মেয়েকে হাফেজা বানাবেন। চান, পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে নিজের উপার্জনে সংসার চালাতে। স্বামী মজিবর রহমান ও চার মেয়ে থাকেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে। জীবিকার তাগিদে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয় তাকে। কথা হলে সংসারের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা আর স্বপ্নের কথা জানান প্রতিবেদককে। হালিমা জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ শেষে রিকশা নিয়ে বের হন রাস্তায়। দিনভর পরিশ্রম করে যা আয় হয়, তা দিয়ে নিজের খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের জন্যও টাকা পাঠান। একসময় তার স্বামী কাজ করতেন।

কিন্তু টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পায়ে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর থেকে আর কাজ করতে পারেন না তিনি। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে পড়েছে হালিমার কাঁধে। তিনি বলেন, আমার চার মেয়ের মধ্যে বড় দু’জনের বয়স ১৬ ও ১৩ বছর। অর্থাভাবে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। ১১ ও ৯ বছর বয়সী ছোট দুই মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ছে। এই দুই মেয়েকে হাফেজা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন বলেও জানান হালিমা। কিন্তু সংসারের অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার টাকার ঋণ। হালিমার ঋণগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আরও বেদনার।

তিনি জানান, গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় রিকশা নিয়ে চালানোর জন্য এক ব্যক্তিকে ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ব্যক্তি রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঋণের দায় এসে পড়ে তার ওপর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সেই ঋণও সামলাতে হচ্ছে তাকে। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা! রিকশা চালানোর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করলেও দেরিতে বেতন পান বলে জানান হালিমা। এতে মাসের শুরুতে ঘরভাড়া ও সংসারের খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েন তিনি। ভাড়া দিতে দেরি হলে বাড়িওয়ালার বকাঝকাও শুনতে হয়। সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করেও পাননি হালিমা। তার ভাষ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় এখনো কার্ড পাননি তিনি। আর্থিক সংকটের মধ্যে সরকারি সহায়তা পেলে কিছুটা স্বস্তি মিলতো বলে মনে করেন তিনি। একপর্যায়ে হালিমা আবেগ আপ্লুত হয়েই বলেন, “বাচ্চারা যখন বলে, পাশের বাড়ির ওরা ভালো খাচ্ছে, আমরা কেন পাচ্ছি না। আমার কষ্ট হয়।”