টানা দুই বছর জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন আমের খান। সবশেষ আসিয়ান কাপে তাকে সরিয়ে ম্যানেজার করা হয় বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবুকে। আমের খানকে দেয়া হয় সমন্বয়কের দায়িত্ব। এবার ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে দেয়া হয়েছে নতুন পরিচয়— মিডিয়া ম্যানেজার। পাশাপাশি দলের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখভাল করবেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা। অর্থাৎ যেকোনো পদেই হোক, জাতীয় দলের সঙ্গে আমের খানকে রাখতেই হবে! এমন সিদ্ধান্তে আবারো প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পেশাদারিত্ব।
বাফুফের নিজস্ব মিডিয়া বিভাগ রয়েছে। বিভাগের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব। প্রথা অনুযায়ী, জাতীয় দলের মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্বও তার পাওয়ার কথা। অথচ তাকে বাদ দিয়ে এমন একজনকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যার মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আসিয়ান কাপে প্রথমে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আমের খান। ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার পর তাকে করা হয় দলের প্রশাসনিক প্রধান (হেড অব এডমিনিস্ট্রেশন)। এবার সমন্বয়কের পাশাপাশি মিডিয়া ও নিরাপত্তার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে তাকে। তবে নতুন দায়িত্ব নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত আমের খান। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না কেন আমাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই আমি সিদ্ধান্ত নেবো।’ দায়িত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আমের খানের। তার ভাষায়, ‘সাধারণত আমরা এর আগে যে দায়িত্বেই থেকেছি, তার জন্য কখনো কোনো অর্থ নিতাম না। এটা ছিল স্বেচ্ছাসেবী ও সম্মানসূচক দায়িত্ব। জাতীয় দলের ম্যানেজারের পদটাও অবৈতনিক। এখন যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেটা বৈতনিক নাকি অবৈতনিক, সেটাও বুঝতে পারছি না।’ এদিকে আসিয়ান কাপে জাতীয় দলের দলনেতার দায়িত্বে থাকা ইকবাল হোসেন এখনো সাফের দলে কোনো দায়িত্ব পাননি। অন্যদিকে, আসিয়ান কাপে একাধিক খেলোয়াড়ের রাতে টিম হোটেল থেকে বের হওয়া ও নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সাফে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু।
