বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন শাদাব খান। এতে দারুণ উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শাদাব খান। রোববার রাতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ৯৬ বলে অপরাজিত ১১৩ রানের ইনিংস খেলার পর এ কথা বলেন তিনি। শেষ উইকেটে হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে রেকর্ড ৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে ১ উইকেটের অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর জয় উপহার দেন শাদাব। এই ঐতিহাসিক জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিক পাকিস্তান। আগামীকাল গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা।
২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ২৮.৩ ওভারে ১২২ রানে সালমান আলী আগা এবং ঠিক পরের ওভারে অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি সাজঘরে ফিরে গেলে স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৫৩ রান। জয়ের জন্য তখনো স্বাগতিকদের দরকার ছিল ১২০ রান, আর হাতে মোটে ১ উইকেট। জ্বর থেকে সেরে উঠে একাদশে ফেরা শাদাব খান শুরুতে খানিকটা দেখেশুনে খেললেও পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো তার এই মারমুখী ও দায়িত্বশীল ইনিংসেই মূলত ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। ওয়ানডে ক্রিকেটের পাঁচ হাজারের বেশি ম্যাচের ইতিহাসে ৮ নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে এত রান করার নজির আর কারও নেই। গতকাল রান তাড়ায় দশম উইকেটে সবচেয়ে বড় জুটির নতুন বিশ্বরেকর্ডও গড়েন শাদাব ও হারিস। এর আগে ১৯৭৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে দশম উইকেটে ৬৪ রানের জুটির রেকর্ড গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটে-বলে নিজের সেরা ফর্মে না থাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে ছিলেন শাদাব। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার পর টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গতকাল ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা তো ছিলই, তবে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, আস্থার প্রতিদান দিতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি। সৃষ্টিকর্তা আজকের দিনটি আমার জন্য তৈরি করে রেখেছিলেন।’ ম্যাচের শেষভাগে গতকাল গ্যালারির দর্শকদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছিল এক দারুণ নাটকীয় মুহূর্ত। ম্যাচ জেতার ঠিক আগমুহূর্তে গাস অ্যাটকিনসনের একটি দুর্দান্ত ইয়র্কারে আম্পায়ার শাদাবকে এলবিডব্লিউ আউট ঘোষণা করলে পরাজয় নিশ্চিত ভেবে মাঠ ছেড়েই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ ব্যাটার হারিস রউফ জেদ ধরে তাকে রিভিউ নিতে বাধ্য করেন। পরে টিভি স্ক্রিনে আল্ট্রা-এজে বল ব্যাটে লাগার বিষয়টি স্পষ্ট হলে জীবন পান শাদাব। ১৯ বলে ৭ রান তুলে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থেকে শাদাবকে দারুণ সঙ্গ দেন হারিস। রাওয়ালপিন্ডির এই দুই বন্ধুর অবিস্মরণীয় বোঝাপড়া নিয়ে শাদাব বলেন, ‘উইকেটে আমরা কোনো বাড়তি চাপ না নিয়ে পরিস্থিতি উপভোগ করছিলাম। এই জয়ের বড় কৃতিত্ব হারিসের, কারণ টেলএন্ডারদের মধ্যে শট খেলার যে তাড়া থাকে, সে তা সংবরণ করে অবিশ্বাস্য ধৈর্য দেখিয়েছে।’
