ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে আস্থা ও জবাবদিহিতে জোর

ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে আস্থা ও জবাবদিহিতে জোর

ফন্ট সাইজ:

অনলাইনে পণ্য কেনা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠানো কিংবা ব্যাংক কার্ডে বিল পরিশোধ, সবই এখন হাতের মুঠোয়। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির পরও কেনাকাটার সময় পণ্য হাতে পাওয়ার আগে টাকা দিতে চান না অনেক ক্রেতা। বিক্রেতার কাছে অর্থ পৌঁছাতেও সময় লাগে কয়েক দিন। অর্থাৎ, ডিজিটাল ব্যবস্থায় শুরু হলেও লেনদেনের শেষ ধাপে রয়ে গেছে নগদ টাকার নির্ভরতা। এই বাস্তবতায় ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে মানুষের আস্থা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সরকারের ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলা কিউআর সম্প্রসারণ এবং ই-কমার্স খাতের বিকাশ, প্রত্যেকটি উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করছে এই আস্থা তৈরির ওপর। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি ও ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ডিজিটাল লেনদেনের পাশাপাশি নাগরিকসেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরলতা, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও আন্তঃসংযোগ, এই ৫টি নীতিকে গুরুত্ব দেয়া হবে। এক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি চালু করাই কেবল লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হলো এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা সহজে ও নিরাপদে সরকারি-বেসরকারি সেবা পাবেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সহজ, নিরাপদ ও বিনা মাশুলে লেনদেন সম্প্রসারণে কাজ করছেন। তিনি বলেন, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন বাড়াতে গত ১ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ব্যবস্থায় লেনদেনের মাশুল শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত ব্যবস্থায় ছোট বা বড় অঙ্কের লেনদেন বিনা মাশুলে করা যাবে। এতে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্টে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হবে। গভর্নর বলেন, আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পিটুপি লেনদেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তখন বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৩৭ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। তবে এই ব্যবস্থাকে কার্যকর পর্যায়ে নিতে দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর)-এর চেয়ারম্যান ও ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো দ্রুত বিস্তৃত হলেও দৈনন্দিন বাণিজ্যে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা এখনো ব্যাপক। বিশেষ করে ই-কমার্সে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধের প্রবণতা এর বড় উদাহরণ। তিনি বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেই নগদনির্ভরতা কমবে না। এর জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা, কার্যকর ভোক্তা সুরক্ষা, স্বচ্ছ নীতিকাঠামো এবং ব্যবসায়ীদের জবাবদিহি। বিশেষ করে ই-কমার্স খাতে ক্রেতার আস্থা অর্জন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল লেনদেনে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সাকিফ শামীম তার বিশ্লেষণে আরও দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো দ্রুত বিস্তৃত হলেও দৈনন্দিন বাণিজ্যে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা এখনো ব্যাপক। বিশেষ করে ই-কমার্সে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধের প্রবণতা এর বড় উদাহরণ। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ই-কমার্সের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা থাকলেও অগ্রিম অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। অতীতে কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যর্থতা ও পণ্য সরবরাহে অনিয়মের ঘটনা এই অনাস্থা ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে। ফলে অনেক ক্রেতা পণ্য হাতে পাওয়ার আগে টাকা দিতে চান না। সাকিফ শামীমের মতে, ক্যাশ অন ডেলিভারি ক্রেতার কাছে নিরাপদ মনে হলেও পুরো সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় বাড়ায়। কুরিয়ারকর্মীর মাধ্যমে নগদ অর্থ সংগ্রহ, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, পণ্য ফেরত আসা এবং নগদ অর্থ পরিবহনের ঝুঁকি বিক্রেতার পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এই চাপ বেশি, কারণ বিক্রির অর্থ হাতে পেতে দেরি হলে নতুন পণ্য কেনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণ ব্যাহত হয়।

জানা গেছে, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোগ বাংলা কিউআর। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহারের নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক সেবার অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া, সিএসইআরের বিশ্লেষণে ই-ক্যাবের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিক্রেতার পরিচয় যাচাই, পণ্যের বিবরণে স্বচ্ছতা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য কিউআর কোড ও পেমেন্ট লিংক চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ই-কমার্স বাজারের আকার, ডিজিটাল পেমেন্টের অংশ, পণ্য ফেরতের হার ও অর্থ ফেরত দিতে প্রয়োজনীয় সময়ের মতো তথ্য নিয়মিত প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটাতে প্রযুক্তির পাশাপাশি কয়েকটি মৌলিক সমস্যার সমাধান জরুরি।

প্রথমত, ক্রেতার অর্থ পরিশোধের পর পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে পণ্য হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত অর্থ নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের কাছে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ক্রেতার ঝুঁকি কমবে, আবার বিক্রেতাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন।

দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের খরচ কমাতে হবে। ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনাকারীদের জন্য সহজ পেমেন্ট লিংক, বাংলা কিউআর এবং স্বয়ংক্রিয় হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা জনপ্রিয় করা যেতে পারে। একইসাথে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক রেকর্ড তৈরি হলে উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগও বাড়তে পারে।

তৃতীয়ত, অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। ভুল হিসাবে অর্থ চলে যাওয়া, ব্যর্থ লেনদেন, পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা কিংবা প্রতারণার ঘটনায় ক্রেতা ও বিক্রেতা কোথায় অভিযোগ করবেন, তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক, পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

চতুর্থত, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ভুয়া পেজ শনাক্ত করা, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং নিরাপদে অর্থ পরিশোধের নিয়ম সম্পর্কে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে সচেতন করতে হবে। সব মিলিয়ে, ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার জন্য সরকারের ডিজিটাল আইডি ও ওয়ালেটের পরিকল্পনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলা কিউআর এবং ই-কমার্স খাতের বিকাশকে একই লক্ষ্যে সমন্বিত করতে হবে। ডিজিটাল লেনদেন তখনই মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হবে, যখন নগদ অর্থের বিকল্প হিসেবে এটি হবে সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। প্রযুক্তির অবকাঠামো তৈরি হয়েছে; এখন সবচেয়ে বড় কাজ মানুষের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস রক্ষায় কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

ক্যাশলেস অর্থনীতি নিয়ে সিএসইআর-এর বিশ্লেষণ:

ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে ই-কমার্স ও ই-ক্যাবের ভূমিকা" শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর)। ঐ প্রতিবেদনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান সাকিফ শামীম আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোবাইল আর্থিক সেবা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ব্যাংক কার্ড এবং অনলাইন বাণিজ্যের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ক্রমেই প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলছে। কিন্তু ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেই অর্থনীতির নগদনির্ভরতা কমে যায় না। এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে মানুষ নগদ অর্থের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল লেনদেনকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মনে করবে। বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতিতে রূপান্তরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন এই আস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ই-কমার্স খাত এবং এর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের একজন নারী উদ্যোক্তা ফেসবুক পেজে শাড়ি বিক্রি করেন। ঢাকার একজন ক্রেতা তার পেজে অর্ডার দেন। পণ্যের ছবি দেখা, দরদাম, ঠিকানা দেয়া এবং অর্ডার নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয় মুঠোফোনে। অথচ লেনদেনের শেষ ধাপে এসে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে ফিরে যেতে হয় নগদ টাকার ব্যবস্থায়। পণ্য পৌঁছে দিয়ে কুরিয়ারকর্মী টাকা সংগ্রহ করেন, সেই অর্থ জমা হয় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, এরপর কয়েক দিন অপেক্ষার পর তা পৌঁছায় উদ্যোক্তার হাতে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় শুরু হওয়া একটি বাণিজ্যিক লেনদেনের শেষ ধাপটি থেকে যায় নগদনির্ভর।

এই ছোট উদাহরণেই বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা দুটোই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডিজিটাল যোগাযোগের অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, অনলাইন কেনাকাটা বেড়েছে, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংকিং লেনদেনের পরিসরও বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই অগ্রগতি এখনো মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটার অভ্যাসকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারেনি। কারণ, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রশ্নটি প্রযুক্তির প্রাপ্যতার পাশাপাশি আস্থারও প্রশ্ন। নগদহীন অর্থনীতি বলতে নগদ টাকা নিষিদ্ধ করা বোঝায় না। এর অর্থ এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ডিজিটাল লেনদেন নগদের তুলনায় সহজ, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, কারণ এতে তার সময় ও খরচ কমবে এবং লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

সিএসইআর এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য এই রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ই-কমার্স। আর এই খাতের সম্মিলিত বিকাশ, মানোন্নয়ন ও নীতিগত সমন্বয়ে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ভূমিকা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি যে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, তার প্রমাণ রয়েছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশে ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশনের সংখ্যা ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১২ কোটি ৮ লাখের বেশি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ। বছরের প্রথম ছয় মাসেই নতুন সংযোগ যুক্ত হয়েছে ৬২ লাখের বেশি। তবে ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা এবং স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক নয়। একজন ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহার করতে পারেন। ই-ক্যাবের প্রশাসকের ২০২৫ সালের এক লেখায় উল্লেখ করা হয়েছিল, সে বছরের শুরুতে দেশের জনসংখ্যার ৪৪.৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন। অর্থাৎ, সংযোগের বিস্তার ঘটলেও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি।

ডিজিটাল লেনদেনের প্রবৃদ্ধি অবশ্য আশাব্যঞ্জক। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা মোবাইল আর্থিক সেবা বা এমএফএস ২০২৪ সালে মোট ১৭ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন পরিচালনা করেছে, যা আগের বছরের ১৩ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ২৮.৪২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ঐবছর দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে দৈনিক মোবাইল মানি লেনদেনের ৮.৬১ শতাংশ বাংলাদেশে সংঘটিত হওয়ার বিপরীতে বিশ্ব জনসংখ্যায় বাংলাদেশের অংশ মাত্র ২.১৯ শতাংশ। এই তুলনা দেশের মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যাপক ব্যবহারকে নির্দেশ করে। ব্যাংক কার্ড ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ব্যাংক কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ, যা ২০২৬ সালের আগস্টে বেড়ে ৫ কোটি ২৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ। মাসিক কার্ড লেনদেনের পরিমাণও ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাসিক লেনদেন ৪৬ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এমএফএসের মাসিক লেনদেন বেড়েছে ১ লাখ ৫ হাজার থেকে ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকার কাছাকাছি, আর কার্ডভিত্তিক ই-কমার্স লেনদেন বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, ডিজিটাল লেনদেনের সক্ষমতা ও ব্যবহার দুই-ই বাড়ছে। এই অগ্রগতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলা কিউআর। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবস্থার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ার ফলে একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপ বা ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট পয়েন্টে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। জুনে যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ লেনদেনে ২৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ হতো, সেখানে পরবর্তী সময়ে দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ এবং লেনদেনের মূল্য ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং মূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইভ্যালিসহ কয়েকটি অনলাইন বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মের ব্যর্থতা অগ্রিম অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন ক্রেতা যদি অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্য না পাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন বা এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন, তাহলে পণ্য হাতে পাওয়ার পর অর্থ পরিশোধকে তাঁর কাছে অধিক নিরাপদ মনে হওয়াই স্বাভাবিক। ফলে ক্যাশ অন ডেলিভারি অনেকের কাছে কেবল একটি অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নয়, বরং প্রতারণার ঝুঁকি এড়ানোর উপায়। কিন্তু এই নিরাপত্তাবোধের পেছনে পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। কুরিয়ারকর্মীর মাধ্যমে নগদ অর্থ সংগ্রহ, অর্থ জমা ও নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, পণ্য ফেরত আসা এবং নগদ অর্থ পরিবহনের ঝুঁকি বিক্রেতার পরিচালন ব্যয় বাড়ায়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যয়ের প্রভাব আরও বেশি। কারণ, তাঁদের কার্যকরী মূলধন সীমিত এবং দীর্ঘ সময় বিক্রির অর্থ হাতে না এলে নতুন পণ্য সংগ্রহ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ ব্যাহত হয়। দারাজের তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্ল্যাটফর্মের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিক্রেতা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার তাঁদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ব্যবসার দক্ষতা বাড়ানোরও একটি সুযোগ।

একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা যত উন্নতই হোক না কেন, ক্রেতা যদি মনে করেন অর্থ পরিশোধের পর পণ্য পাওয়া অনিশ্চিত, তাহলে তিনি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন না। একইভাবে, বিক্রেতা যদি লেনদেনের অর্থ সময়মতো পাওয়া, বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা না পান, তাহলে তিনিও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাইবেন না। তাই ক্যাশলেস অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করতে হলে প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি নিয়ম, জবাবদিহি ও কার্যকর ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এই জায়গাতেই ই-ক্যাবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, ই-ক্যাবকে সদস্য প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য বিশ্বাসযোগ্যতার একটি কার্যকর মানদণ্ড প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হতে হবে। বিক্রেতার পরিচয় ও ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই, পণ্যের বিবরণে স্বচ্ছতা, অর্ডার বাতিল ও অর্থ ফেরতের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ক্রেতার অভিযোগ নিষ্পত্তির নিয়ম সদস্যপদের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। এসব নীতি কাগজে থাকলেই হবে না, নিয়মিত তদারকি এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। এতে ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতা চিহ্নিত করতে পারবেন এবং সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা পাবেন। দ্বিতীয়ত, বাংলা কিউআর ও আন্তঃব্যাংক পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে ই-ক্যাবকে ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে ফেসবুকভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য পেমেন্ট লিংক, কিউআর কোড এবং লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা জনপ্রিয় করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ, অর্থ ফেরত দেওয়া, হিসাব রাখা এবং প্রতারণা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে। তৃতীয়ত, নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে। ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে প্ল্যাটফর্ম কমিশনের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে বৃদ্ধিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্সের নীতিমালা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। কর ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত হয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিক ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নেওয়ার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক ব্যয়ের মুখে না পড়েন। নিয়মের অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত ব্যয় ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করলে তা ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্যকেই দুর্বল করবে।

চতুর্থত, বাজারের নির্ভরযোগ্য তথ্য তৈরিতে ই-ক্যাবকে উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবাদাতা এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে বাজারের আকার, অর্ডারের সংখ্যা, পেমেন্ট পদ্ধতি ভিত্তিক লেনদেন, পণ্য ফেরতের হার এবং অর্থ ফেরতের সময় নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা যেতে পারে। অভিন্ন সংজ্ঞা ও পরিমাপ পদ্ধতি অনুসরণ করলে বাজারের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বোঝা সহজ হবে। এতে নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, ক্রেতার আস্থা বাড়াতে পণ্য সরবরাহের সঙ্গে অর্থ পরিশোধের নিরাপদ সমন্বয় প্রয়োজন। পণ্য হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত অর্থ নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের কাছে সংরক্ষণের ব্যবস্থা, যাচাইকৃত বিক্রেতার পরিচিতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা অগ্রিম অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি কমাতে পারে।

তৃতীয়ত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। একটি সহজ কিউআর কোড বা পেমেন্ট লিংকের মাধ্যমে ক্রেতা অর্থ পরিশোধ করতে পারলে ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া সহজ হবে। ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবাদাতাদের উচিত এ ধরনের সেবা সহজলভ্য করা এবং এর খরচ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।

চতুর্থত, অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। ব্যর্থ লেনদেনের অর্থ ফেরত, ভুল হিসাবে অর্থ চলে যাওয়া, পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা এবং প্রতারণার অভিযোগের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা কোথায় যোগাযোগ করবেন, তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশিকা ও অভিযোগ জানানোর বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর গ্রাহকসেবা সমন্বিত করা গেলে অভিযোগের প্রতিকার সহজ হতে পারে।

পঞ্চমত, আর্থিক ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতে ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপদ পেমেন্ট, ভুয়া পেজ শনাক্ত করা, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং অর্থ ফেরতের নিয়ম সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে সচেতন করতে হবে। ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার যত বাড়বে, নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষার গুরুত্বও তত বাড়বে।

বাংলাদেশের এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ডিজিটাল লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেনে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা। এর জন্য কেবল নতুন প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না। মানুষকে এমন অভিজ্ঞতা দিতে হবে, যাতে ডিজিটাল লেনদেনকে তাঁরা নগদের তুলনায় অধিক সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য মনে করেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য লেনদেনের খরচ কমানো, বিক্রির অর্থ দ্রুত হাতে পৌঁছানো এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্যাশলেস বাংলাদেশ কোনো একদিনের ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এটি গড়ে উঠবে সেই ক্রেতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, যিনি প্রথমবার অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে সময়মতো সঠিক পণ্য হাতে পাবেন। গড়ে উঠবে সেই উদ্যোক্তার সিদ্ধান্তে, যিনি ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করে দ্রুত বিক্রির অর্থ নিজের হিসাবে পাবেন। গড়ে উঠবে এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে ভুল হলে অভিযোগের প্রতিকার পাওয়া যাবে এবং প্রতারণা করলে দায় এড়ানো যাবে না। ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামো তৈরিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন প্রয়োজন সেই অবকাঠামোর ওপর মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ই-কমার্স এই আস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র, আর ই-ক্যাবের সামনে সুযোগ রয়েছে সংগঠিত নেতৃত্ব, কার্যকর মানদণ্ড ও নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার। শেষ পর্যন্ত অর্থ কাগজের নোটে থাকুক কিংবা মুঠোফোনের পর্দায়, একটি সুস্থ ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো মানুষের আস্থা বা বিশ্বাস।