লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হয়েও নিয়োগ ধরে রাখতে পারেননি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোলায়মান। তার নিয়োগ বাতিল করে হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের পরিচালক করা হয়েছিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানকে। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মৌখিক নির্দেশে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ নিয়োগ দেয়া হয়। সেই নিয়োগ ঘিরে বিতর্কের আড়াই বছর পর অবশেষে দায়িত্ব হারালেন আসাদুজ্জামান।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক আসাদুজ্জামান। তার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক। পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রেষণে এ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ১৯শে অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। একই আদেশে আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে তাকে সরিয়ে দেয়ার কারণ আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি হিট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ৪ হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ৫০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বাকি ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন অধ্যাপক সোলায়মান। ওই বছরের ১৪ই মার্চ তাকে নিয়োগও দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কিন্তু নিয়োগের এক দিনের মাথায় তা বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে ওই পদে নিয়োগ পান চুয়েটের অধ্যাপক আসাদুজ্জামান।
তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের মৌখিক নির্দেশে সোলায়মানের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সোলায়মানের দাবি ছিল, বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সাদা দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং বিএনপি সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়ার কারণে তাকে বাদ দেয়া হয়। অন্যদিকে, আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অধ্যাপক সোলায়মানের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৭ই আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ অধ্যাপক আসাদুজ্জামানের নিয়োগ স্থগিতের আদেশ দেন। এরপরও তিনি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে তার দায়িত্বের অবসান হলো।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন সময়ে আসাদুজ্জামানকে সরানোর দাবি ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ইউজিসির এক প্রভাবশালী সদস্যের কারণে সে সময় তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের আগস্টে হিট প্রকল্পে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একদল শিক্ষক। সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক আসাদুজ্জামানকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে হিট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রকল্পে সরকারের পাশাপাশি অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর পরিচালক পরিবর্তন হলেও নতুন পূর্ণকালীন পিডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক রাকিবুল হকই দায়িত্ব সামলাবেন।
