আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

ফন্ট সাইজ:

বীরমুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের নেতারা। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানকে ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক মামলায় আটক রাখা হয়েছে।

এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (জামুপ) ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে পরিষদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে করা অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আখতারুজ্জামানের ছেলে সাব্বির জামান বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও সম্মান রক্ষায় কাজ করছেন। প্রবাসীদের পক্ষে বিমানবন্দরে প্রতিবাদ করায় তাকে আটক রাখা হয়েছে।’ ৭৬ বছর বয়সী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ২৬ দিন ধরে কারাগারে আটকে রাখা হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে সরকার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, ‘মেজর আখতারুজ্জামান সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো অপরাধে জড়িত নন।’ বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলা-হামলা করে তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠ থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, ‘৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। কিন্তু প্রবাসীরা বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলার ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি।’

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেহ উদ্দিন। এতে আরও বক্তব্য দেন পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফজলুল হক, মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও মো. আতাউর রহমান সরকার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদের মুখপাত্র শহিদুল ইসলাম, আখতারুজ্জামানের ছেলে মো. সাব্বির জামান, রিভাইভার স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ডা. মইন উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।