১০ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশে ফিরেছেন ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এর আগে একাধিকবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। রোববার এক্সে মাচাদো লেখেন, ‘আমি এখানে। আপনাদের সঙ্গে।’ নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য গত জানুয়ারি মাসে রাতের আঁধারে ছদ্দবেশে স্পিডবোটে করে ভেনেজুয়েলা ছেড়েছিলেন তিনি। ঠিক এক মাস পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। এরপর ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেয়। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত সুবিধাজনক একটি তেল চুক্তিতে সই করেন। রোববার ভেনিজুয়েলার লারা প্রদেশের একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায় মাচাদোকে।
এ সময় সমর্থকরা তাকে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানান। এরপর তিনি উল্লাসরত সমর্থকদের বিশাল গাড়িবহর নিয়ে রাজধানী কারাকাসের দিকে যাত্রা শুরু করেন। রাতে কারাকাসে প্রবেশের সময় গাড়ির সানরুফ দিয়ে তাকে হাসিমুখে দেখা যায়। এক্সে তিনি লেখেন, এটি কারাকাসে পুনর্মিলনের রাত, প্রতিটি পরিবারের পুনর্মিলন এবং ভেনিজুয়েলার মুক্তির রাত। মাচাদোর মিত্র এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমুন্ডো গনজালেস তার পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী ভেনিজুয়েলার মাটিতে ফিরেছেন, এটি জানাতে পেরে আমি আনন্দিত; তিনি আমাদের পথ দেখাবেন। গনজালেস আরও জানান, ভেনিজুয়েলাকে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিতে তিনিও শিগগিরই মাচাদোর সঙ্গে যোগ দেবেন। গত সেপ্টেম্বরে মাচাদোর এক উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন যে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি সাতবার দেশে ফেরার চেষ্টা করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। এসব বিলম্বের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল বলে খবর ছড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচন হলে মাচাদো আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
২০২৩ সালের স্বতন্ত্র প্রাথমিক নির্বাচনে মাচাদো ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু জালিয়াতি ও কর ফাঁকির অভিযোগে মাদুরো সরকার তাকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করে। মাচাদো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন যে এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার জায়গায় লড়েন গনজালেস। মাদুরো সরকার কোনো প্রমাণ ছাড়াই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করলেও বিরোধী দল দাবি করে গনজালেস জিতেছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও নির্যাতনের মামলা চলছে। মাচাদোর মুখপাত্র ডেভিড স্মোলানস্কি এই ফেরাটিকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন এবং ডনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
