ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছেন। প্রথম দফার ভোটে ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোর কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে পিছিয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক লুলার এই বিজয়কে একটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশটিতে দক্ষিণপন্থিদের আরেকটি সম্ভাব্য বিজয় আটকে দিলেন লুলা। আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
রোববার ব্রাসিলিয়ার সময় রাত ৯টার কিছু পরে ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট (টিএসই) নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, লুলা ৫১.৭৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যা প্রায় ৬ কোটি ৪২ লাখের বেশি ভোট। অন্যদিকে ফ্লাভিও বোলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২২ শতাংশ ভোট, যা প্রায় ৫ কোটি ৯৮ লাখ ভোটের সমান। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৪০ লাখ। ব্রাজিলের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম দফার ভোটে হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় কোনো প্রার্থীর জয়ের ঘটনা এটাই প্রথম।
লুলার ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান এডিনহো সিলভা এই জয়কে 'গণতন্ত্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ' বলে উল্লেখ করেছেন। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ অন্যান্য বামপন্থি নেতারাও লুলার এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
তবে নির্বাচনের দিন কিছু এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ করে ভোটারদের বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। লুলার সমর্থকদের দাবি, ফ্লাভিওর সমর্থকরা ইচ্ছাকৃতভাবে বাস কমিয়ে দিয়ে লুলার ভোট ব্যাংককে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে ফ্লাভিওর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে উভয় প্রার্থীর প্রচার শিবির সুপ্রিম কোর্টে ভোটের সময় বাড়ানোর আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা বর্ধিত হয়ে হয়ে ব্রাজিলীয় সময় রাত ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
৮০ বছর বয়সী সাবেক মেটালওয়ার্কার্স ইউনিয়ন নেতা লুলা ২০২৭ সালের ৫ই জানুয়ারি চতুর্থ মেয়াদে শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের পর সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার রেকর্ড গড়বেন। ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে এবং ২০২২ সালে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আগামী মেয়াদে কংগ্রেসে ডানপন্থিদের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আইন পাসের ক্ষেত্রে তাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
