কুড়িগ্রামের উলিপুরে নাজমা খাতুন (৩৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি স্বজনদের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমা তার মা অলিমা বেগম ও ভাই রহিমুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন। গত এক বছর ধরে শাহিনুর ইসলাম পলাশ নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই যুবক নাজমার বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে জানা যায়, ওই যুবক হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। তার বাড়ি একই উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি’র কয়েকজন নেতার মধ্যস্থতায় শনিবার সন্ধ্যায় এক লাখ ১৬ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। তাদের দাবি, জরিমানার ৭০ হাজার টাকা নাজমার মামা ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফজলে কাদির এবং বাকি টাকা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি কামালসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ভাগ করে নেন। এ ঘটনার জেরে রোববার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নাজমা একটি পরিত্যক্ত ঘরে গলায় ফাঁস দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ধামশ্রেণী ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি কামাল বলেন, আমি পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বাদলের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পারি। পরে মিটিংয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত থাকিনি। সমঝোতা না হওয়ায় চলে আসি। পরে শুনেছি, উভয়পক্ষের সম্মতিতে শনিবার রাতেই টাকা-পয়সার লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
ধামশ্রেণী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, উলিপুর বাজারে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হায়দার আলী মিঞার শোরুমে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। জরিমানার সমুদয় অর্থ মেয়ের মামার হাতে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। নিহতের মামা ও ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফজলে কাদের বলেন, মিটিংয়ে বসে জানতে পারি, ছেলেটি হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় আমার ভাগ্নি নাজমা তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। পরে এক লাখ ২০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে এক লাখ ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই টাকা আমাকে দেয়া হলে আমি আমার বোনের পরিবারের কাছে তা দিয়ে দিই। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী সরকার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
