গ্যাস সংকটে আবারো বন্ধ হয়ে গেল যমুনা সার কারখানা

ফন্ট সাইজ:

সর্বশেষ সার উৎপাদন শুরুর দুইদিন পরই পুরোপরি বন্ধ হয়ে গেল বিশ্বের দ্বিতীয় এবং দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। রোববার ভোর ৫টায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ করায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন। তিনি বলেন, গ্যাস কাট করায় কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় ও কারখানা সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালের ১লা জুলাই যমুনা সার কারখানা বাণিজ্যিকভাবে দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করে। এটি বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্পসংস্থা (বিসিআইসি) অধীন দৈনিক ১ হাজার ৭শ’ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষম।

এ সার কারখানাটি ৪২ পিএসআই চাপে গ্যাস প্রয়োজন হয়। গ্যাস সংকটে প্রায় ৮ মাস বন্ধ রাখার পর গত ২০শে সেপ্টেম্বর গ্যাস পেয়ে কারখানার স্টার্ট-আপ (উৎপাদন শুরুর প্রাথমিক প্রস্তুতি) শুরু করে কর্তৃপক্ষ। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করলেও সার কারখানাটিতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকলেও ৩৮/৩৯ পিএসআই চাপ পেয়েই অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করে।

শুরু করার পরপরই ২৬/২৭ পিএসআই চাপে নেমে আসে। উৎপাদন শুরুর ৪৩ ঘণ্টার মাথায় কারখানার বয়লারে লিকেজ দেখা দেয়ায় আবারো বন্ধ হয়ে যায়। লিকেজ মেরামত করার পর গ্যাসের চাপ কম থাকায় সার উৎপাদনে যেতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শঙ্কার মধ্যে শুক্রবার সকালে সার উৎপাদন শুরু হলেও রোববার ভোরে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করায় কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার যমুনার সার উত্তোলন করে থাকেন। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং গ্যাস সংকটের অজুহাতে সার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের সার আমদানি করা হবে। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পেয়ে সার উৎপাদন শুরু করেছিলাম। তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগ প্রত্যাহার করায় বন্ধ হয়ে গেল কারখানা।