ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি’র অধ্যাপক ড. জাভেদ খান

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি’র অধ্যাপক ড. জাভেদ খান

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ন্যানো ইউরিয়া সার উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানো টেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। গতকাল রোববার বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট অনুমোদন করেছে। দেশের কৃষি খাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে এ অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা।

ড. জাভেদ হোসেন খানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন। বিগত সরকারের আমলে তার আবেদনটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ’র সরাসরি দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। অবশেষে গতকাল এ উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পাওয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো।

পেটেন্ট অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিসে আবেদন করেছিলাম। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আজ পেটেন্টের অনুমোদন পেয়েছি। এ অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ’র আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন। দেশের মাটি, দেশের কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, সারের অপচয় হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে।’ পেটেন্ট পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল এই ‘ন্যানো ইউরিয়া সার’-এর পেটেন্ট প্রাপ্তি যবিপ্রবি পরিবারসহ সমগ্র জাতির জন্য এক অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন কেবল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং দেশের কৃষি খাতে এক বিরাট বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমান পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি আমাদের কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে এটি সরকারের কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে অনন্য ভূমিকা পালন করবে।