ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী আলফাডাঙ্গার ফলিয়া বাজারে শনিবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পাট, পিয়াজ, রসুন, চালসহ বিভিন্ন পণ্যভর্তি অন্তত আটটি গুদাম ও একটি দোকান ভস্মীভূত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই গুদামে মজুত বিপুল পরিমাণ পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলিয়া বাজারের পাট ও পিয়াজ ব্যবসায়ী মাসুদ মণ্ডলের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের গুদামেও ছড়িয়ে পড়ে। গুদামে বিপুল পরিমাণ পাট ও দাহ্য পণ্য থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। পাশের বারাশিয়া নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত গুদাম মালিকদের মধ্যে রয়েছেন- হাবিবুর রহমান হাবি মণ্ডল (৪৫), ফিরোজ মেম্বার (৫৫), মাসুদ মণ্ডল (৩৫), মিল্টন মোল্যা (৩০), জুয়েল মণ্ডল (৩০), ইমরুল মোল্যা (৩৫) ও কালাম মোল্লা। স্থানীয়দের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি গুদামে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফিরোজ মেম্বার বলেন, গুদাম বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার পর আগুনের খবর পাই। ঘটনাস্থলে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে। ধারদেনা করে পাটের ব্যবসা করেছি। এখন সেই ব্যবসার পুঁজিও নেই। কীভাবে ঋণ শোধ করবো দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।
বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রয়েল আহমেদ বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ৮টি গুদাম ও কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী থেকে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এতে প্রায় নয়টি গুদাম ও কয়েকটি দোকানের পাট, পিয়াজ, চালসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।
