চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বেরকোটা গ্রামের বাসিন্দা নিরীহ ভেকুচালক মো. জাবের হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে একই গ্রামের কাজল রেখা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন লিটনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হয়রানি এবং ধারের টাকা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন হয়রানির শিকার মো. জাবের হোসেন ও তার পরিবার।
এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে নিজ বাড়িতে দেয়া লিখিত বক্তব্যে মো. জাবের হোসেন দাবি করেন, প্রায় ৪ বছর আগে পারিবারিক সমস্যার কারণে আর্থিক সংকটে পড়লে তার বাবা মো. আবুল হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা কাজল রেখার কাছ থেকে সুদে ১ লাখ টাকা ধার নেন। ধারের টাকার বিপরীতে তার বাবা আবুল হোসেন একটি গ্যারান্টি চেক প্রদান করেন বলে তিনি দাবি করেন। জাবের হোসেনের দাবি, পরবর্তী সময়ে কাজল রেখা ওই চেকের বিপরীতে ১ লাখ টাকার পরিবর্তে সুকৌশলে ২১ লাখ টাকা দাবি করেন।
তার অভিযোগ, ৫ই আগস্টের সময়ে কাজল রেখা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন লিটন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর তাদের পক্ষে ধারের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২১শে অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট ইসরাত জাহান ইমার মাধ্যমে তার বাবার কাছে ২১ লাখ টাকা দাবি করে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি তাদের বিস্ময় করে তোলেন। জাবের হোসেনের দাবি- মূল ধারের পরিমাণ ছিল ১ লাখ টাকা। তবে ওই টাকার পরিবর্তে ২১ লাখ টাকা দাবি করে চলতি বছরের ২৫শে জানুয়ারি কচুয়া, চাঁদপুরের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
তার দাবি, ধারের প্রকৃত পরিমাণ ১ লাখ টাকা হলেও অলিখিত চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে অতিরিক্ত ২১ লাখ টাকা দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি এসব অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কাজল রেখা ও তার স্বামী আলাউদ্দিন লিটন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমাদের হয়রানি করছেন, আমরা ন্যায়বিচার ও সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত আবুল হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ, নাজির হোসেন, বাবুল মিয়া, জহির মিয়া, মোস্তফা কামাল ও রুহুল আমিনসহ কচুয়া প্রেস ক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
