সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির কাছে সর্বোচ্চ অর্জন আশা করছেন আসিফ নজরুল

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির কাছে সর্বোচ্চ অর্জন আশা করছেন আসিফ নজরুল

ফন্ট সাইজ:

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্জন আশা করছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। শনিবার জতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদদের নিয়ে ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আশা করবো, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই এবং যতটুক অর্জন হবে সেটাই আমাদের লাভ। তবে আমরা চাই সর্বোচ্চ অর্জন যেন হয়।

আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই। যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, আর কি এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ এটার মধ্যে আমি যেতে চাচ্ছি না। প্রতিষ্ঠান যেগুলো রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, আর হচ্ছে আপনার কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট কী ফর্মে গঠন করা হবে, সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কথা হচ্ছে এখনো। নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে, আর্টিকেল ৭০ নিয়ে কথা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে সম্ভবত ২০১১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে যে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং হয়েছিল সেখানেও আমি ইনভাইটেড হয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম ওখানে। আমরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু পরে প্রতারিত হয়েছি। পরে দেখলাম যে মানে খুবই নিন্দিত একটা সংশোধনী পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়েছে।
তিনি বলেন, এটা তো সেকেন্ড আশা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে, তো আশা করি এবার আমরা আরও ভালো পরিবর্তন পাবো, গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশাটা যেন আমাদের মাথায় থাকে সেটা আপিল করেছি।
আসিফ নজরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন যে বাদ করা হয়েছে এটা নিয়ে আমি আমার হতাশা প্রকাশ করেছি এবং স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে বিএনপি’র নিজস্ব যে কমিটমেন্ট সেটাও ছিল এগুলোর পক্ষে। তখন আইনমন্ত্রী আমাকে বলেছেন যে, এটা ওনারা আইন করবেন পরে। এটা ওনারা বাদ দিয়েছেন মানে একদম সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিয়েছেন, এমন না।
সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো নিয়ে কমিটিকে পরামর্শ দেয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি রিকোয়েস্ট করেছিলাম যে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা কমিটির প্রধান হিসেবে যেন বিরোধী দলের সদস্যদের রাখা হয়। তো এটার ব্যাপারে কোনো উত্তর পাইনি।”

স্থায়ী কমিটিগুলো যেন ঠিকমতো কাজ করতে পারে এজন্য সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে একটা আইন প্রণয়নের থাকার কথা তুলে ধরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এ আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব বলেছেন যে এটা ওনারা করবেন।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন
কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনেকে আইডিয়া দিয়েছেন এভাবে যে, যদি উচ্চকক্ষ গঠিত হয় এবং উচ্চকক্ষ যদি সংসদের একই মেয়াদে ডিজলভ (উরংংড়ষাব) বা বিলুপ্ত না হয়; অর্থাৎ সেই ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ যদি থেকেই যায়, তবে উচ্চকক্ষের মধ্যে কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের গঠন প্রক্রিয়া রাখা যায় কি না।
তিনি বলেন, সেই ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃজন করা হয়, তবে একজনের প্রস্তাব আছে যে ভাইস প্রেসিডেন্টকেই উচ্চকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেয়া। অথবা যদি বিকল্প থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিরোধী দল ও সরকারের সম্মতিতে স্পিকারকে নিয়ে আসা যেতে পারে। সেই স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কি না এবং স্পিকার বাদে অন্যান্য যারা প্রতিষ্ঠান প্রধান থাকেন, তারাও সরকার এবং বিরোধী দলের সম্মতিতে ওখান থেকে যদি এডভাইজার (উপদেষ্টা) নিযুক্ত হন, সেটার

একটা বিধান থাকতে পারে।
বৈঠকে সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদিন মালিক ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানসহ প্রায় ৪৪ জন বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন।