ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে সবজির বাজারে। শীত না এলেও এই মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাজারে বাড়ছে। রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে শীতকালীন সবজি শিম, ফুলকপি, মুলা উঠতে শুরু করেছে। শীতের সবজির আগমনে কমেছে কিছু সবজির দাম। এ ছাড়া গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ডিমের দামও। বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে সস্তা সবজি লাউ ও পেঁপে। আর দামি সবজির তালিকায় রয়েছে- টমেটো, শিম ও ফুলকপি।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন সবজি হিসেবে এখন বাজারের প্রায় সব সবজির দোকানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিম পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে। একইভাবে বাজারে আসা প্রতিটি বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুন ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। পটোল ও ঢ্যাঁড়সের কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম নতুন আসা শিমের। শিমের স্বাদ নিতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে অন্তত ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। যদিও এই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা কম। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মুলাও বিক্রি করতে দেখা গেছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারেও। এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। সপ্তাহ দু’য়েক আগে ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।
সবজি বিক্রেতা রাকিব হোসেন বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা দাম কমেছে। বাজারের সস্তা সবজি হচ্ছে লাউ, পেঁপে। দামি সবজি টমেটো ও শিম।
ডিমের দাম কমেছে ডজনে ১০ টাকা: এদিকে দাম কমেছে ডিমেরও। প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমেছে ডিমের দাম। গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কমে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে। যদিও, পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো প্রতি হালি ডিমের দাম ১৫০ টাকা রাখা হচ্ছে, যা আগে ১৫৫ ছিল। এদিকে মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
মুরগি বিক্রেতা সাকিব হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সোনালি মুরগির দামও ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। আজ (শুক্রবার) সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ডিমের দামও কমেছে। আজ ব্রাউন ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা বিক্রি করছি। গত সপ্তাহে ব্রাউন ডিমের ডজন ১৫০ টাকায়ও বিক্রি করেছি
মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০, পাঙাশ ২০০-২২০, কাতল ৩৫০-৮০০ এবং চিংড়ি ৮০০-১,১০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শৈল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাইফুল আলম ছেলেকে সঙ্গে এসেছেন বাজার করতে সবজির দাম কমায় কিছুটা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে সবজির দাম কমে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ডিমের দামও কমেছে। সরকার নিয়মিত তদারকি করলে ব্যবসায়ীরা দাম তাদের ইচ্ছে মতো বাড়াতে পারে না। ব্যবসায়ীরা কোনো অজুহাত পেলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। যেই আয় করি তার ৯০ শতাংশই বাজারের পেছনে খরচ হয়ে যায়। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়লেও আমাদের বেতন বাড়ে না।
