রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি শেষ

ফন্ট সাইজ:

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। ইউনিটটির বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পরবর্তী ধাপ সি-স্টেজে প্রবেশ করে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রত্যাশা, আজ-কালের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

ঢাকায় রুশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে জানানো হয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, রোসাটমের প্রথম উপ-মহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩শে অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে। সফরকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং প্রকল্প পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে যৌথভাবে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এনপিসিবিএলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা যাবে কিনা, তা নির্ভর করছে বায়েরা’র চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে।

তবে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ধারিত ধাপগুলোর সফল সমাপ্তি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।