খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর ড্রোনে ধরা পড়লো সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর ড্রোনে ধরা পড়লো সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া

ফন্ট সাইজ:

সাজেকে পর্যটক ও স্থানীয়দের ওপর হামলা, লাঠিপেটা এবং দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে ডাকা অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ স্বস্তির মধ্য দিয়ে শেষ হলেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়। অবরোধ চলাকালেই খাগড়াছড়ির বাইল্ল্যাছড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ভারী অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসীদের মহড়া দিতে দেখা গেছে, যা ধরা পড়েছে সেনাবাহিনীর ড্রোন ক্যামেরায়। আকস্মিক এই অবরোধে হাজার হাজার যাত্রী ও পর্যটক চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
?শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে এই অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। সাজেকবাসীর ওপর সামপ্রতিক হামলার প্রতিবাদ এবং তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল। তবে অবরোধ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন টানটান উত্তেজনায় ছিল, ঠিক তখনই মাটিরাঙ্গা-গুইমারা বাইল্ল্যাছড়া প্রধান সড়কের ডাবল ব্রিজ এলাকায় এক সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। ?জানা যায়, সেনাবাহিনীর মাটিরাঙ্গা জোনের একটি আভিযানিক দল ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ওই এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল। ড্রোনে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক প্রধান সড়ক থেকে দ্রুত গতিতে গ্রামের ভেতরের দিকে প্রবেশ করছে। তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছিল এক নজরকাড়া ভারী আগ্নেয়াস্ত্র। সেনাটহল ও ড্রোনের নজরদারি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে এবং গহীন জঙ্গলের ভেতরে গা ঢাকা দেয়। এই ভিডিও ফুটেজটি সামনে আসার পর পুরো পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ভোরে অবরোধ শুরু হতেই খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস এলাকা, বাইল্ল্যাছড়ি, পানছড়ি সড়ক এবং সাজেক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন পিকেটাররা। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং বিশাল বিশাল কাঠের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং শুরু করে। পরে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় তা স্বাভাবিক করা হয়। তবে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও রাঙ্গামাটিগামী সব ধরনের দূরপাল্লার বাস ও আঞ্চলিক যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আটকে পড়েন শত শত যাত্রী।
?দূরপাল্লার শান্তি পরিবহনের বাসচালক আব্দুল গফুর জানান, ‘এই ধরনের আকস্মিক অবরোধের কারণে পরিবহন সময়সূচি পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে যায়। যাত্রী পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয় চালক ও মালিকদের।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে জেলায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে আধাবেলা অবরোধ শেষ হয়েছে।’ দুপুর ১২টার পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে এবং বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে সাজেকে চলমান অস্থিরতা এবং পর্যটনকেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে আছে।