ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল ফেস্টিভ্যালের প্রথম ম্যাচে ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে গতকাল ইউরোপের দলটির বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করে গোল হজম করেনি বাংলাদেশের যুবারা। তবে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। গোলরক্ষক শ্রীনাথ হালদারের দৃঢ়তায় এক পয়েন্ট পেলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ আকবর হোসেন রিদন।
অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই বৈশ্বিক ফুটবল উৎসবে অংশ নিচ্ছে ১৯১টি দেশ। প্রচলিত ফুটবলের নিয়মে ৯০ মিনিটের পরিবর্তে প্রতিটি ম্যাচ হচ্ছে ৪০ মিনিটের। দুই দলের হয়ে মাঠে খেলছেন আটজন করে ফুটবলার। ভিন্নধর্মী এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে রক্ষণ সামলে আক্রমণেও সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। তবে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। শারীরিক শক্তিতে ওয়েলস এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক শ্রীনাথ হালদারকে বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। শ্রীনাথের দৃঢ়তায় ক্লিনশিট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে এই গোলরক্ষক বলেন, ‘ওয়েলস ফিজিক্যালি আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। আমার লক্ষ্য ছিল ম্যাচটি ক্লিনশিট রাখা। সেটা রাখতে পেরেছি। আশা করি, সামনের ম্যাচেও এই ধারাবাহিকতা রাখবো।’ তবে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন কোচ আকবর হোসেন রিদন। বাফুফের প্রকাশ করা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘পারফরম্যান্সে আমি তেমন খুশি নই। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। তারা শারীরিক ও টেকনিক্যালি অনেক শক্তিশালী।
বিশেষ করে আমরা বিল্ড আপে অনেক ভুল করেছি। ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ আমরাই মিস করেছিলাম।’ ওয়েলসের বিপক্ষে পাওয়া পয়েন্টের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা বাংলাদেশের। রোববার সকালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশটির বিপক্ষে মাঠে নামবে যুবারা। একই দিনে আরও একটি ম্যাচ রয়েছে তাদের। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে পরের ম্যাচের প্রস্ততি নেয়াটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ভিডিও সেশনের মাধ্যমে ওয়েলসের বিপক্ষে করা ভুলগুলো শুধরে নেয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন কোচ। বিশেষ করে বিল্ড আপে ভুল কমানো এবং আক্রমণে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর দিকে নজর দিতে চান তিনি। প্রথম ম্যাচে গোল না পেলেও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচগুলোতে সেই পারফরম্যান্সের সঙ্গে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা যোগ করতে পারলেই প্রতিযোগিতায় আরও ভালো করার সুযোগ তৈরি হবে।
