বাংলাদেশ ফুটবল লীগে (বিএফএল) জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এবারের মৌসুমে চার ম্যাচ খেলে চারটিতে জয় তুলে নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে সাদা-কালোরা। গতকাল মুন্সীগঞ্জের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৪-০ গোলে হারায় মোহামেডান। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা পুলিশ এফসি’র আরও কাছে চলে এসেছে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি। চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে মোহামেডান। শীর্ষে থাকা পুলিশ এফসি’র পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট। একই দিনে মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে পিডব্লিউডিকে ১-০ গোলে হারায় টেবিল টপাররা।
তবে এক ম্যাচ কম খেলে পুলিশকে চাপে রাখলো মোহামেডান। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে মোহামেডান। তবে গোলের খাতা খুলতে ২৯ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের। সুলেমান দিয়াবাতের বাড়িয়ে দেয়া বল ডি-বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহজেই জালে পাঠান ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমন। এই এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় সাদা-কালোরা। বিরতির পর মোহামেডান মাত্র পাঁচ মিনিটের ঝড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৫২ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলেমান দিয়াবাতে। এর ঠিক চার মিনিট পর ৫৬ মিনিটে আবারো গোল উৎসবে মেতে ওঠে দলটি। এবার গোলদাতা মুজাফফরভ, আর এই গোলেরও জোগানদাতা সেই দিয়াবাতে। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ওয়ান্ডারার্স। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৮৬ মিনিটে আরিফ হোসেন আরও এক গোল করলে মোহামেডানের ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয়। জয়ের পর মোহামেডানের মাশরাফি ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্, আমরা জিততে পেরেছি। প্রতিপক্ষ অনেক চেষ্টা করেছে। আমাদের ডিফেন্ডাররা সতর্ক ছিল।
ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’ এদিকে, লীগের অন্য ম্যাচে গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে ৪-০ গোলে হারায় সিটি ক্লাব। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্তের জোড়া গোলে পাওয়া এই বড় জয়ে পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি। জয়ের পর সিটি ক্লাবের গোলরক্ষক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আজ আরামবাগের সঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। আমাদের দল কোচের প্ল্যান অনুযায়ী খেলেছে।’
