ফেনীতে নিখোঁজের তিনদিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে মো. আবদুল্লাহ আল আমিন (৩০) নামে এক তাঁতী দল নেতাকে। আল আমিন সোনাগাজী উপজেলার উত্তর মঙ্গলকান্দি এলাকার মৃত আবদুর রশিদের ছেলে ও সোনাগাজী উপজেলা তাঁতী দলের সদস্য সচিব। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকার একটি ঝোপ থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই এলাকার একটি ঝোপ থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ সময় তার শরীর ও হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।
এর আগে তার নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার চাচি কামরুন নাহার। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার বিকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন আল আমিন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। আল আমিনের চাচা আবদুল হক নোমান বলেন, আল আমিনকে পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আমাদের খবর দেয়। পরে তাকে জরুরিভাবে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি কথা বলতে পারছেন না।
পরিবারের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়। ওই সময় তার স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান। উপজেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হক নোমান বলেন, আল আমিনকে নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি। এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) সৈয়ম মুমিদ রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে।
