বড় মেয়ে বিয়ে হয়েছে সম্প্রতি, মেজো মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর ছোট ছেলে মাদ্রাসার শিশু শ্রেণিতে পড়ছে। ৫ সদস্যের সুখী সংসার ছিল মাইনউদ্দিন (৪১) ও আঞ্জুমান (৩৭) দম্পতির।
টিকটক আর একটি বাটন মোবাইল ফোনের অপব্যবহার এই দম্পতির সংসারের ভাঙনের সৃষ্টি করেছে। এমনটাই অভিযোগ স্বামী মাইনউদ্দিনের। ১২ই অক্টোবর সকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দাঁতের ডাক্তার দেখাবে বলে স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে ৩ সন্তানের জননী আঞ্জুমান। যাওয়ার আগে গ্রামীণ ব্যাংকের ডিপিএস, এনজিও থেকে তোলা টাকা, নিজের ও মেয়ের ব্যবহৃত দুইজোড়া কানের দুলও নিয়ে গেছেন গৃহিণী।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশীল ইউপি’র বাংড়া গ্রামের মাইনউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ দিন আগে ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রী ডাক্তারের কাছে যাবে বলে টাকা নেয়।
দিন শেষে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে বাড়িতে না পেয়ে সন্তান, আত্মীয়, প্রতিবেশীদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে খোঁজাখুঁজি করি। কোনো খবর না পেয়ে ১৭ই অক্টোবর বাসাইল থানায় সাধারণ ডায়েরি করি (৭৩৮)। ধারণা ছিল যেকোনো কারণে অভিমান করে থাকলেও থানা পুলিশ করার পার চলে আসবে। অথচ আজ ১৩ দিনেও তার কোনো খবর নেই। মেজো মেয়ের কাছে জানতে পারলাম দুই-তিন মাস আগে সে একটা বাটন ফোন কিনে আমার অনুপস্থিতিতে কারও সঙ্গে কথা বলে। টাকা, গহনা নিয়ে গেছে বলে এখন আমি মনে করছি সে কারও সঙ্গে চলে গেছে। বিষয়টি আমি আমার শাশুড়ি, শালীদের কাছেও জানিয়েছি । তারা কোনো গুরুত্বই দেয় না।
গৃহিণীর মেজো মেয়ে মেঘলা জানায়, “আম্মারে মাঝে মাঝেই দেখতাম টিকটকের মোবাইল হাতে নিয়ে আরেকটি ফোন দিয়ে কার সঙ্গে যেন কথা বলতো। আব্বারে বইলা দিতে চাইছি,পরে আম্মা আমারে মারছে।” গৃহিণীর ছোট বোন আম্বিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, “আমার বোন কারও সঙ্গে চলে গেছে কি না এটা বলতে পারি না। তবে আগে তাকে খুঁজে পাওয়া দরকার, জানা দরকার সে কোনো বিপদে পড়েছে কি না!
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত তার লোকেশন চাঁদপুরে দেখা গেছে। তার সন্ধানে আমাদের প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। খুব শিগগিরই তার সন্ধান বের করতে পারবো বলে আশা করছি।
