ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশে থেকে দ্বীনি ও সামাজিক খিদমত দিয়ে যাচ্ছেন। সারা দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের এই সম্মেলন ইমাম সমাজের ঐক্য ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এক অর্থবহ মিলনমেলা বলে আমি মনে করি। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র যুগে মসজিদ ও মেহরাব ছিল সমাজ সংস্কার, নৈতিক চর্চা ও মানবকল্যাণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সেই সুমহান ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমাদের দেশের প্রতিটি মসজিদকে হেদায়েত ও সমাজ উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। মাদক, হিংসা-বিদ্বেষ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জুমার খুতবা ও বয়ানের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ইমামদের মিম্বারই সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আপনারা কেবল সালাতে ইমামতি করেন না; সমাজ গঠনে আপনাদের কথা মানুষ পরম আস্থার সাথে শোনে ও বিশ্বাস করে। আপনাদের এই সামাজিক আস্থাকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অশুভ তৎপরতা রূখে দিতে আলেম সমাজ ও ইমামগণ সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। কোনো প্রকার হানাহানি বা উস্কানিমূলক পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রেখে প্রজ্ঞা ও সহনশীল ভাষার মাধ্যমে সুন্নাহর দাওয়াত ছড়িয়ে দেয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির কাউন্সিল ও জাতীয় ইমাম সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি’র সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক ইনকিলাব-এর সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী,জাতীয় সংসদ সদস্য (সিলেট-৫) মুফতি আবুল হাসান এমপি, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা শাব্বির আহমেদ মোমতাজী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মহিববুল্লাহিল বাকী নদভী ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড.ঈশা সাহেদী। সম্মেলন পরিচালনা করেন কুরআনের আলোর পরিচালক মাওলানা মহিউদ্দিন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনারা যেন প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও সুন্নাহর আলোকে সমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, সে জন্য সরকার সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সেখানে কর্মরত সেবকদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১,১০০ (এগার শত) কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় দেশের মোট ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৩৩৯ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ধর্মীয় নেতাদের আগামী ৪ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কাজে ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করে আমরা এক আদর্শ সমাজ গঠনে কাজ করছি।
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, ১৯৯৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে ২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশের আলেম-ওলামা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার অবদানের কথা আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আমি আপনাদের কাছে মরহুমার বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাই। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্যও দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার তাওফিক দান করেন।
দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইমামদের ভূমিকা সবার ঊর্ধ্বে, মাদক সন্ত্রাস কিশোর গ্যাং এর করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে ইমামদের জুমার আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রতি জুম্মায় ইমামদের আলোচনা নিজেদেরকে সভ্য মানুষ করার জন্য চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট মরহুম জিয়াউর রহমানকে এদেশের সম্মানিত ইমামরাই মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলেন, তারাই প্রেসিডেন্টের হওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। এদেশের ইমামরাই তার প্রতিষ্ঠিত দলকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারই পুত্র তারেক রহমান এমপি প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইমামদের জন্য মাসিক সম্মানের ব্যবস্থা করেছেন। ইনশাল্লাহ আগামী দিনেও তিনি ইমামদের জন্য কাজ করবেন। এটি তার মা বাবার শিক্ষা।
