মৎস্য কর্মকর্তার বাড়ি যাচ্ছিল প্রকল্পের সরঞ্জাম, জনতার হাতে ধরা

মৎস্য কর্মকর্তার বাড়ি যাচ্ছিল প্রকল্পের সরঞ্জাম, জনতার হাতে ধরা

ফন্ট সাইজ:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের (রাজস্ব) সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে প্রকল্পের অব্যবহৃত সরঞ্জাম (সিমেন্টের খুঁটি ও কাঁটাতার) আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নিমগাছী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তিনটি ট্রাকের মাধ্যমে নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পের অব্যবহৃত ৬১টি সিমেন্টের বড় খুঁটি ও তিন কয়েল কাঁটাতার প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ রানা তার নিজ বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সরকারি প্রকল্পের সরঞ্জাম আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা মালামাল ভর্তি ট্রাক থামিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এতে চালক কোনো উত্তর না দিয়ে কর্মকর্তা মাসুদ রানার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে প্রকল্পের অব্যবহৃত সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে মাসুদ রানা কোনো সদুত্তর না দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। এরপর মালামাল ভর্তি ওই ট্রাকটি স্থানীয়রা সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে আটকে রাখেন। আর অপর দু’টি ট্রাকে মালামাল না থাকায় প্রকল্পের স্থানেই রাখা হয়। অভিযুক্ত প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ রানার সঙ্গে কথা বলতে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোনটি ধরেননি। পরে তার নম্বরে ক্ষুদেবার্তা দিলেও কোনো উত্তর আসেনি। তবে প্রকল্পের হ্যাচারি টেকনিশিয়ান রুহুল আমিনের দাবি, মাসুদ রানার বাড়িতে তদারকির কেউ না থাকায় সে তার নিজস্ব অর্থায়নে সিমেন্টের খুঁটিগুলো কর্মস্থলেই বানিয়েছিল।

আর প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে বেশ কিছু কাঁটাতার কেনা হয়। তখন তিনি তার টাকা দিয়ে আটক হওয়া তিন কয়েল কাঁটাতার কিনে রেখেছিল। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, নিমগাছী মৎস্য চাষ প্রকল্পটি জেলা অফিসের অধীনে না। এটি সরাসরি রাজস্বভুক্ত হওয়ায় বিভাগীয় অফিস থেকে পরিচালিত হয়। কিছু জানার থাকলে বিভাগীয় অফিসেই যোগাযোগ করতে হবে। কথা হয় রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়ার সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ওই প্রকল্পের এক কর্মচারীর মাধ্যমে জেনেছি। সে বলছে, মাসুদ রানা তার নিজ গ্রামের বাড়িতে কাজে লাগানোর জন্য সিমেন্টের খুঁটিগুলো প্রকল্প এলাকায় বানিয়েছিল। আর তিন কয়েল কাঁটাতার কিনে অফিসে রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তিনিও মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সে ফোন ধরেনি। তবে আটক হওয়া মালামালগুলো প্রকল্পের হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।