কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্যও ভাগ্য লাগে

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্যও ভাগ্য লাগে

ফন্ট সাইজ:

কথায় আছে হিমালয়ের অপরূপ তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য ভাগ্য লাগে। এবার তেমনটিই ঘটেছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখার জন্য পর্যটকরা এলেও এবার ছিল ব্যতিক্রম। পূজার টানা ছুটিতে অপরূপা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে হিমালয় কন্যাখ্যাত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ঢল নামে। কিন্তু সবকিছু ঠিক থাকলেও দেখা নেই কাঞ্চনজঙ্ঘার। শরতের শেষে এসে কয়েকদিনের জন্য দেখা দিয়ে আবারো মেঘের কোলে মুখ লুকিয়েছে লজ্জাবতী কাঞ্চনজঙ্ঘা। হেমন্তের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার লজ্জা যেন কাটছেই না। ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে হাজারো পর্যটক ছুটে এসেছেন তেঁতুলিয়ায়। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এ উপজেলা। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তরের আকাশ মেঘে আবৃত্ত থাকার কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে গেছে আড়ালে, আবডালে। এরপরও প্রকৃতির টানে পর্যটকদের আগমন থেমে নেই।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় এসে রাতে তারা অবস্থান করছেন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে। ভোরের আলো ফোটার আগেই তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলো এলাকায় জড়ো হচ্ছেন শত শত পর্যটক। উদ্দেশ্য একটাই, এক নজর নিজ চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন। কিন্তু না; আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সেই কাঙিক্ষত দৃশ্যের দেখা মিলছে না। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রিয় পর্বতকে না দেখার আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেক দর্শনার্থীকে। অনেকে আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেলেও ঘুরে দেখছেন সবুজে ঘেরা সমতলের চা বাগান, কেউ উপভোগ করছেন মহানন্দা নদীর সৌন্দর্য। আবার কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন সীমান্তঘেঁষা জনপদের নির্মল পরিবেশে। রাজধানী ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রুপম ও নীলফামারী থেকে আসা আতিক ওয়াদুদ বলেন, পূজার ছুটিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় তারা এসেছেন। কিন্তু উত্তরের শান্ত আকাশ মেঘে ঢাকা থাকায় তাদের আশা পূরণ হয়নি। কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না পেলেও তেঁতুলিয়ার শান্ত পরিবেশ, রাতের ডাকবাংলো এলাকার সৌন্দর্য ও মহানন্দা নদীর মনোরম দৃশ্য তাদের ভালো লেগেছে। ফেরার পথে তারা দেখেছেন পঞ্চগড়ের রকস মিউজিয়াম, ঐতিহাসিক মহারাজার দীঘি, আটোয়ারীর মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বোদার বোদেশ্বরী মন্দির।

এদিকে দ্বিতীয় সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও প্রতিদিন হাজারও পর্যটকদের উপস্থিতিতে তেঁতুলিয়ার পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরেছে। হোটেল, রিসোর্ট ও হোমস্টেগুলোতে মানুষের চাপের কারণে থাকার জায়গা পেতে সমস্যা ও বেগ পেতে হচ্ছে অনেক দর্শনার্থীকে। পর্যটনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে মেঘ ও কুয়াশার উপস্থিতির কারণে পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হচ্ছে না। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিচে কুয়াশা থাকলে উপরের মেঘ সরে দিনের কিছুটা সময়ের জন্য দৃশ্যমান হতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আবহাওয়ার আদোপান্ত খবর নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসার জন্য তিনি পর্যটকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করাসহ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও হয়রানি প্রতিরোধে রিসোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।