ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় মার্কিনবিরোধী প্রচার নতুন কিছু নয়। তবে এবার এক অভিনব আয়োজন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। উত্তর তেহরানের একটি অভিজাত এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে মানুষের সমান উচ্চতার একটি কারাগারের খাঁচা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি বানিয়ে তার আদলে পোশাক পরা এক অভিনেতাকে বন্দি অবস্থায় দেখানো হচ্ছে। ত্রিমাত্রিক এই শিল্পকর্মটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকে সেখানে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন, আবার কেউ কেউ খাঁচার ভেতরে থাকা ট্রাম্পের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তেহরান ট্রাম্পকে দায়ী করে আসছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান তাদের প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ সময় দেশটির বেশ কয়েকটি শিল্পকর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ এই প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে উত্তর তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারে কয়েক তলা ভবনের সমান উচ্চতায় একটি কারাগারের খাঁচা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। খাঁচার ভেতরে রয়েছেন গাঢ় রঙের স্যুট ও লাল টাই পরা এক অভিনেতা। মুখে লাগানো কৃত্রিম মুখোশে তাকে ট্রাম্পের মতো দেখানো হয়েছে। কখনো তাকে খাঁচার ভেতরে পায়চারি করতে দেখা যাচ্ছে, কখনো আবার দুই হাত দিয়ে খাঁচার শিক ধরে থাকতে দেখা যাচ্ছে। খাঁচাটির পাশে স্থাপন করা একটি পর্দায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধাপরাধের’ নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই শিল্পকর্ম ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়াও বিচিত্র। এক পথচারী মজা করে খাঁচার ভেতরে থাকা ট্রাম্পরূপী ব্যক্তিকে বলেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমরা আপনার জামিনের টাকা দিয়ে আপনাকে ছাড়িয়ে আনব!’ তবে সবাই যে বিষয়টিকে নিছক কৌতুক হিসেবে দেখছেন, তা নয়।
এক কিশোর ক্ষোভ প্রকাশ করে চিৎকার করে বলে, ‘ট্রাম্প, এবার আমরা আপনাকে মেরে ফেলব!’ এই প্রচারাভিযানের পেছনে রয়েছে তেহরানের পৌর কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, রাজধানীর বাসিন্দাদের ইরানের ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি স্মরণ করিয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই ট্রাম্পকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিত্রিত করে আসছে তেহরান। একই সঙ্গে প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বানও জানিয়ে আসছে দেশটি।
ইরানের অভিযোগ, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব স্থাপনার মধ্যে একটি স্কুল ও একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও ছিল বলে দাবি করেছে তেহরান। এসব হামলায় বহু নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ইরানের। ইরানি কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, নতুন এই প্রচারমূলক স্থাপনাটি সপ্তাহের সাত দিন, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
