প্যারিসের কাছে বন্দুক হামলা, ‘সন্ত্রাসবাদী অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত চলছে

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্যারিসের কাছে বন্দুক হামলা, ‘সন্ত্রাসবাদী অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত চলছে

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। শুক্রবারের এ হামলার ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, শুক্রবার প্রথমে প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাপ শহরে এবং পরে কাছের লা ভেরিয়ের এলাকায় গাড়ি থেকে কয়েক দফা গুলি চালানো হয়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে এই তাণ্ডব। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। ইতোমধ্যে হামলায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর (পিএনএটি) জানিয়েছে, ঘটনাটি ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত হত্যা’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিন ত্রাপ শহরে সাংবাদিকদের নুনেজ বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি সন্ত্রাসবাদী অপরাধ। কৌঁসুলিও তা-ই বলেছেন।’

এ ছাড়া ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহ জানান, শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে তার সামনে পড়া বিভিন্ন মানুষের ওপর গুলি চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধূসর রঙের রেনো ক্লিও গাড়ি নিয়ে একাধিক এলাকায় ঘুরে বেড়ান হামলাকারী।

মেয়র বলেন, হামলাকারী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য ছিল যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করা। ‘তিনি ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ঘটাতে চেয়েছিলেন,’ বলেন রাবেহ।
এদিন মেয়র জানান, ত্রাপ শহরে একটি পেট্রলপাম্প, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও শিশুদের খেলার মাঠের কাছে গুলি চালানোর পর হামলাকারী পাশের লা ভেরিয়েরের দিকে চলে যান। এ সময় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি পেট্রলপাম্প ও কয়েকটি গাড়িতে গুলি লাগে।

দেশটির পুলিশ ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা জানান, শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এন১০ মহাসড়কে লা ভেরিয়ের এলাকায় সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাছের কোয়েনিয়ের শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্ণবাদী বা ইসলামবিদ্বেষী উদ্দেশ্যের সন্দেহ
হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ত্রাপের মেয়র বলেন, নিহত ব্যক্তি আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন। গুরুতর আহতদের একজন উত্তর আফ্রিকীয় বংশোদ্ভূত। এ কারণে হামলার পেছনে বর্ণবাদী বা ইসলামবিদ্বেষী উদ্দেশ্য থাকতে।

রাবেহের ভাষায়, হামলায় ‘বর্ণবাদী, সম্ভবত ইসলামবিদ্বেষী ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর।

দপ্তরটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে হত্যাকাণ্ডের পেছনে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র থাকার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর প্রকৃত বা অনুমিত জাতি, জাতিগত পরিচয়, জাতীয়তা কিংবা ধর্মের কারণে অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের কাছে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তার বিষয়ে আগে কোনো তথ্য ছিল না।
এই হামলার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী কোনো সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।