আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

অপ্রতিম হত্যা

আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও ৭ম শ্রেণির স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার চার আসামির বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও পুলিশের মিডিয়া সেল শুক্রবার গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান বলেন, গত ২০ অক্টোবর দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড। অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, ওই দুই কিশোরকে অভিযোগপত্রে শিশু বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই কিশোর এখন গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আছে।

এর আগে গত শনিবার এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এক সপ্তাহের মধ্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। নিহত অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জেনেছি। তবে বিস্তারিত আর কিছু জানি না। আমি চাই দ্রুত যেন রায় হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ আজ শুক্রবার সকালে বলেন, চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মিডিয়া সেল থেকে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন তিনি।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। ওই দিন তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনা দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। পরে কুমিল্লা জুড়ে কিশোর গ্যাং বিরোধী পুলিশের সাড়াশি অভিযান শুরু হয়।