রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ওসির বাদানুবাদ, ভিডিও ভাইরাল

রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ওসির বাদানুবাদ, ভিডিও ভাইরাল

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে থানা কক্ষে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে তার নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ ওঠে সংসদ সদস্য ও তার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন একাধিকবার ফোন করলেও ওসি তাতে সাড়া দেননি। এমনকি তাদের ফোনও ধরেননি তিনি। এ ছাড়া ওসির কাছে নিরাপত্তা চেয়েও পাননি সংসদ সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা।
থানার ওসির কক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোয় দেখা যায়, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তার কক্ষে বসে আছেন। তার পাশেই বসা ছিলেন রুমিন ফারহানা। নেতাকর্মীরা ছিলেন রুমিন ফারহানার সঙ্গে।
সংসদ সদস্য, তার পিএস ও নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওসিকে প্রশ্ন করছিলেন। বারবার ফোন করেও সংসদ সদস্যের ফোন না ধরা এবং তাকে কেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি, এসব বিষয় নিয়ে ওসির সঙ্গে ওই সংসদ সদস্য ও তার নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন চলতে থাকে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওসিকে উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানা বলেন, তাদের কাছ থেকে আপনি মাসোহারা নেন। যেহেতু এসব অভিযোগ আপনার নামে উঠেছে, সেহেতু আপনার উচিত হবে বিষয়গুলো মিডিয়ার সামনে পরিষ্কার করা। এভাবে তো চলতে পারে না।
এক পর্যায়ে ওসি বলেন তাদের নাম বলেন। তখন এই সংসদ সদস্য বলেন, যদি কারও নাম বলি, তাহলে মিথ্যা মামলা দেয়া হবে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। হ্যাঁ, এক্সাক্টলি। আপনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো অবস্থাও নেই। কারণ, আপনি মাটির ব্যবসা থেকে টাকা নেন, ইটভাটা থেকে টাকা নেন, নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে টাকা নেন। এটা আপনার ব্যবসা। সুতরাং, আপনি এখন এসব নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবেন না।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, আমি চেয়েছিলাম, আপনার এই দুর্নীতির বিষয়টি আপনার সঙ্গে বসে আলোচনা করতে। কিন্তু আপনি চাইলেন, এই দুর্নীতির খবর মিডিয়ায় আসুক। তাই এটি মিডিয়ায় আসছে। আমি জানি, আপনার ব্যাপারে বিগত সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীরও সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ এনে আপনাকে সরানোর জন্য মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি আশা করব, আপনি আর যে কয়দিন দায়িত্বে আছেন, সততার সঙ্গে কাজ করবেন। কিন্তু আপনি সৎভাবে কাজ করছেন না।

একপর্যায়ে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি মব সৃষ্টির কথা বলেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের এসপিকে দেখান। এ সময় সংসদ সদস্য এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো সাড়া দেননি।
পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ওসিকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি (ওসি) যখন বলতেছেন, ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন। তার মানে আমি দিব না।’ উত্তরে ওসি বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ান...।’ তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’
এদিকে ওই ঘটনার বিষয়ে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নানান অভিযোগ ওনার (ওসি) বিরুদ্ধে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। আমি একটা তালিকাও নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কোনো মন্তব্যও করেন নাই। দুই পাতার তালিকা ছিল যে এই তারিখে এই অপরাধ, ওই তারিখে ওই অপরাধ। উনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।’
মবের অভিযোগ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মব সাধারণত যায় থানায় আসামি ছিনাইয়া আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনাইয়া আনছি, এক। আমি কি ওনার কাছে টাকা দাবি করেছি, দুই। আমি কি বলেছি আমাকে কিছু দিতে হবে, তিন। আমি তিনটার একটাও বলিনি। তাহলে মব হলো কোথা থেকে।’
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে আমাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। আমার পিএস ১২ বার ফোন দিলেও তিনি (ওসি) ধরেননি। উনি বলেছেন, আমার নিরাপত্তা আমাকে ব্যবস্থা করতে হবে। আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলব।’
ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয় এসেছিলেন। তিনি শত শত লোক নিয়ে থানার মধ্যে হইচই করে একটি অস্থিরতা তৈরি করে আমার কক্ষে। একটা বিব্রতকর অবস্থা।’
নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা পূজাকেন্দ্রিক সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য উনি গানম্যান চাইবেন। সেটা আলাদা বিষয়। একটা দল ওই সময় তার সঙ্গে রাখা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।’