হ্যাকিং হচ্ছে এআই দিয়ে, নিরাপদ থাকার ৫ উপায়

হ্যাকিং হচ্ছে এআই দিয়ে, নিরাপদ থাকার ৫ উপায়

ফন্ট সাইজ:

বুধবার বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ জানতে পারে যে পিএইচপি নামের একটি কোডিং ভাষায় হ্যাকযোগ্য মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ এই ভাষার নাম না শুনলেও ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এটি দিয়ে তৈরি। এই খবর জানার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলো দ্রুত এটি সংশোধনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সতর্ক করেছে, পিএইচপি-এর এই ত্রুটিগুলো ব্যবহার করে হ্যাকাররা ওয়েব সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এর মাধ্যমে তারা তথ্য চুরি, সেবা ব্যাহত বা সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য নেটওয়ার্কগুলোতে প্রবেশ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মূল দায় সফটওয়্যার সরবরাহকারী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সবার কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া উচিত। যেভাবে অনলাইন পদচারণা সুরক্ষিত রাখা যায় তার ৫টি উপায় মানবজমিনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন: মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা এমএফএ-তে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি টেক্সট-ভিত্তিক কোড বা সিকিউরিটি কি ব্যবহার করতে হয়। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেনসিসের প্রধান নিরাপত্তা গবেষক এমিলি অস্টিন প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং যেকোনো লেনদেনের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন। তবে তিনি জানান, পিএইচপি ত্রুটির মতো ক্ষেত্রে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ ছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের খুব বেশি কিছু করার নেই। কিন্তু সাধারণত হ্যাকাররা ব্যক্তিগত পর্যায়ে তথ্য হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে। তাই মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা জরুরি।

স্বয়ংক্রিয় আপডেট: সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেইল অব বিটসের প্রধান নির্বাহী ড্যান গুইডো ফোন, কম্পিউটার ও হোম রাউটারের অটোমেটিক আপডেট চালু রাখার পরামর্শ দেন। ত্রুটি ধরা পড়ার পর কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা আপডেট দিয়ে থাকে, তাই দ্রুত সেগুলো ইনস্টল করলে হ্যাকারদের হামলার সুযোগ কমে যায়। গ্রানিটের প্রতিষ্ঠাতা রুনা স্যান্ডভিক ইন্টারনেট-সংযুক্ত সব ডিভাইসের আপডেট নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। নিয়মিত আপডেট দিলে সফটওয়্যারগুলোর সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিসেবা পাওয়া যায়।

দ্রুত সিস্টেম আপডেট: সারে ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটির প্রভাষক ড. ড্যানিয়েল গার্ডহ্যাম জানান, এআই যুগে আক্রমণকারীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই সংস্থাগুলোকে দ্রুত সিস্টেম আপডেট বা প্যাচ করতে হবে। এআই ইন্টারনেটকে নিরাপদ করবে নাকি আরও ঝুঁকিপূর্ণ করবে, তা নির্ভর করছে প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত এই ত্রুটিগুলো সামাল দিতে পারে তার ওপর।

প্রতারকদের থেকে সাবধান: সাইবারকাইনেটিক্স কোম্পানি অর্কাসের প্রধান নির্বাহী নিক অ্যাডামস জানান, বড় কোনো সাইবার হুমকির খবর এলেই প্রতারকরা তার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত লিংক থেকে সতর্ক থাকতে হবে। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করার জন্য জরুরি কোনো বার্তা পেলে তাতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কোন লিংকে প্রবেশ করার পূর্বে লিংকের ধরণ যাচাই করতে হবে। এবং তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা বিবেচনা করতে হবে।

আর্থিক নিরাপত্তা: আমেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পল বেন্ডা জানান, ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল আসার পর থেকেই ব্যাংকগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ শক্তিশালী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন সাইবার হুমকির নতুন একটি সময় চলছে। তাই কেনাকাটার ক্ষেত্রে সাধারণ সাইটগুলোতে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত নয়। সম্ভব হলে পাসকির ব্যবহার করতে হবে, যা ফিশিং প্রতিরোধে কার্যকর।

সূত্র: রয়টার্স