স্রোতে ভাসে অপরাধের চিহ্ন

সহযোগীদের খবর

স্রোতে ভাসে অপরাধের চিহ্ন

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

স্রোতে ভাসে অপরাধের চিহ্ন। প্রথম আলোর শিরোনাম। এতে বলা হয়, ঢাকার বুড়িগঙ্গা থেকে গত ২৩ আগস্ট ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে এক নারী, এক শিশু এবং এক তরুণ ও এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নারীর গলায় কালো কাপড় প্যাঁচানো ছিল। শিশুটির মরদেহ প্যাঁচানো ছিল ওড়না দিয়ে। তরুণ ও তরুণীর হাত একসঙ্গে বাঁধা ছিল, দুজনের শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। পুলিশের ধারণা, তাঁদের হত্যা করে লাশ গুম করতে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় না মেলায় ১১ দিন পর চারটি মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের একটি নদী থেকে বাঁশের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর পরনে কোনো কাপড় ছিল না। ওই এলাকায় তাঁকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে থানায় সংরক্ষিত ছবি দেখে স্বজনেরা তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে—ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছরে ২ হাজার ৬৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৪৩০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ বছর ৯ মাসে উদ্ধার হয়েছে ২ হাজার ৪৯৪টি মরদেহ।
উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি যেমন আছেন, তেমনি বিভিন্নভাবে নদীতে পড়ে দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু এবং নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার ঘটনাও রয়েছে।

৫ বছর ৯ মাসের মোট চিত্র
নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। নারী ও শিশুর মরদেহও রয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন থানায় ৩৯২টি হত্যা মামলা এবং নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার ঘটনায় ২৬টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মাছ ধরতে, ঘুরতে ও গোসল করতে গিয়ে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নৌ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৭টি।
নৌ পুলিশের সদর দপ্তরের দেওয়া হিসাবে, এ সময়ে ১ হাজার ৭৩৯ জনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হয়নি ৭৫৫ জনের।

উদ্ধার হওয়া লাশের আলামত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ছবি তুলে থানায় রাখা হয়। দাফনের পর কেউ থানায় এসে পরিচয় শনাক্ত করলে তদন্ত সাপেক্ষে সে অনুযায়ী মামলা ও তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

২০২১-২৫: ৫ বছরে ২,০৬৪ মরদেহ
নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৩১৮টি, ২০২২ সালে ৩৬০টি, ২০২৩ সালে ৪০৫টি, ২০২৪ সালে ৪৪০টি এবং ২০২৫ সালে ৫৪১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই পাঁচ বছরে উদ্ধার হয়েছে ২ হাজার ৬৪টি মরদেহ। এর মধ্যে খুন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় হত্যা মামলা হয়েছে ৩৩৫টি ঘটনায়। এ সময়ের মধ্যে প্রতিবছরই উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্ধার হয়েছে ২০২৫ সালে।

চলতি বছরের ৯ মাস: ৪৩০ মরদেহ
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৪৩০টি মরদেহের মধ্যে ৩১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি ১১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম তাঁদের বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে।

এই ৯ মাসে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে ৫৭টি। এ ছাড়া গোসল করতে গিয়ে ১১৬ জন, ভ্রমণে বা ঘুরতে গিয়ে ৫৭ জন, নৌ দুর্ঘটনায় ৩৮ জন, মাছ ধরতে গিয়ে ৩৭ জন, নৌযান থেকে পড়ে ১৯ জন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২ জন এবং নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব কারণে মোট মারা গেছেন ২৭০ জন।

আরও ১০৪ জনের মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা যায়নি বলে উল্লেখ রয়েছে পুলিশের দেওয়া তথ্যে। এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক চিত্র
নৌ পুলিশ সারা দেশের নদীপথকে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। এগুলো হলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, বরিশাল, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, খুলনা ও সিলেট।
ঢাকা অঞ্চলের আওতায় রয়েছে বুড়িগঙ্গা, খিলক্ষেতসংলগ্ন বালু নদ, শীতলক্ষ্যার একাংশ, দোহারসংলগ্ন পদ্মা এবং নরসিংদীসংলগ্ন মেঘনা।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাব পাওয়া গেছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই ৩ বছর ৯ মাসে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে, ৩৯৮টি। দ্বিতীয় অবস্থানে নারায়ণগঞ্জ, ২৫৩টি। সবচেয়ে কম উদ্ধার হয়েছে সিলেটে, ২০টি।

একই সময়ে বরিশালে ২১১টি, রাজশাহীতে ১৭৭টি, চট্টগ্রামে ১৬৭টি, ফরিদপুরে ১৪৯টি, চাঁদপুরে ১২৭টি, খুলনায় ১২৭টি, কিশোরগঞ্জে ৯৪টি এবং টাঙ্গাইলে ৯৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেও সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে, ৭৮টি। দ্বিতীয় অবস্থানে বরিশাল, ৬৩টি। এরপর নারায়ণগঞ্জে ৬০টি, রাজশাহীতে ৫৫টি, ফরিদপুরে ৫০টি, টাঙ্গাইলে ২৯টি, খুলনায় ২৩টি এবং চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও কিশোরগঞ্জে ২২টি করে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সিলেটে উদ্ধার হয়েছে ৬টি।

পরিচয় না মেলায় তদন্তে বাধা
নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, অনেক ঘটনায় নদীতে মরদেহ ভেসে ওঠার আগেই পচন ধরে। আঙুলের ছাপ মুছে যায়, চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। এতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়। কখনো মানুষের কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়। মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মিললেও হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা যায় না। আবার বিভিন্ন মাধ্যমে পরিচয় জানা গেলেও পচনের কারণে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা যায় না।

গত ২৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি মরদেহের মধ্যে কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ কোল্ড স্টোরেজ এলাকার তীরে পাওয়া যায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী ও তিন-চার বছরের এক শিশুর লাশ। কালিন্দীর মাদারীপুর ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় তরুণ ও তরুণীর লাশ। মরদেহগুলোতে পচন ধরেছিল। দাবিদার না থাকায় ১১ দিন পর আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম সেগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে।

নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, নিজেদের আড়াল করতে খুনিরা হত্যা করে লাশগুলো নদীতে ফেলে দিয়েছে। নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এবং তরুণ ও তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। লাশগুলোর ছবি ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। তাঁদের খোঁজে কেউ থানায় গেলে ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় জানার চেষ্টা করা হবে।

ছবি ও মোজা দেখে পরিচয় শনাক্ত
গত বছরের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কাঁচপুর নৌ পুলিশ মরদেহের ছবি তুলে রাখে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাঁকে দাফন করা হয়।

পরে পুলিশের সংরক্ষিত ছবি ও পায়ের মোজা দেখে মরদেহটি জব্বার হাওলাদারের (৪৫) বলে শনাক্ত করেন তাঁর ছেলে মাহবুবুর রহমান। জব্বার পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। এ ঘটনায় মাহবুবুর রহমান সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম। তিনি এখন নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
মাইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পরিবারের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি অটোরিকশা চালাতে বেরিয়ে জব্বার আর বাড়ি ফেরেননি। সঙ্গে তাঁর মুঠোফোন ছিল। সেই মুঠোফোনের সূত্র ধরে আল আমিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন জানান, শাওন নামের এক যুবক তাঁর কাছে ফোনটি বিক্রি করেছেন।

পরে শাওনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মাইনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, শাওন হত্যার কথা স্বীকার করে জানান, সন্ধ্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই করতে জব্বারকে কৌশলে কোমল পানীয়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য ও উচ্চমাত্রার ঘুমের বড়ি মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নারায়ণগঞ্জের আদমজী ঘাট থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অটোরিকশা ও মুঠোফোন বিক্রির টাকা সাতজন ভাগ করে নেন।

মাইনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে জব্বারের অটোরিকশা ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা সংঘবদ্ধ অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাই চক্রের সদস্য।

ময়নাতদন্তে যা পাওয়া যায়
নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, নদী থেকে উদ্ধার মরদেহে আঘাতের চিহ্ন না পাওয়া গেলে কিংবা পচন ধরে গেলে সাধারণত থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। তবে পরিচয় জানা না গেলেও মরদেহের আলামত, অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণে ঘটনা সন্দেহজনক মনে হলে নৌ পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করে।

তদন্ত ও ময়নাতদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে অপমৃত্যুর মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। নৌ পুলিশ সেই মামলার তদন্ত করে।

নৌ পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, ময়নাতদন্তে যেসব মৃত্যু হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেসব প্রতিবেদনে ধর্ষণ, শ্বাসরোধ, মাথায় আঘাত এবং পানিতে ফেলে হত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া হাত, পা, গলা ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটা, জখমযুক্ত এবং বস্তাবন্দী লাশও উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এসব ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।

ময়নাতদন্ত–বিশেষজ্ঞদের সমিতি দ্য মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাক রহিম প্রথম আলোকে বলেন, অনেক সময় নদ-নদী থেকে পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব মরদেহে আঘাত বা কাটা আঘাতের চিহ্ন থাকলেও পচনের কারণে আলামত নষ্ট হয়ে যায়। মাছ বা পোকামাকড় মরদেহের অংশ খেয়ে ফেললেও আলামত নষ্ট হয়। তখন মৃত্যুর কারণ নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে। গরমের দিনে পানিতে ডোবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাশ ভেসে ওঠে। তখন উদ্ধার করা গেলে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা যায়।

অধ্যাপক মোস্তাক রহিম বলেন, দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব নেই। এসব চালু হলে মরদেহে পচন ধরলেও মৃত্যুর বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যাবে।

নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন থানায় হওয়া নিখোঁজসংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংগ্রহ করে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে নৌ পুলিশ। এসব জিডির সূত্র ধরে পরে অনেক সময় নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘাটসহ সম্ভাব্য স্থানে নজরদারি

নৌ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহ শনাক্ত না হলে মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন করা যায় না। নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক কলহ, মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্ব ও পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এবং যানবাহন ছিনিয়ে নিতে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। লাশ যাতে শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে বেশি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে নৌ পুলিশের প্রধান বলেন—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ সবচেয়ে জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ। এসব এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বেশি। সংগত কারণে অপরাধের মাত্রাও বেশি।

নদীতে লাশ ফেলা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম বলেন, দূরবর্তী নির্জন এলাকায় লাশ ফেলে দেওয়া হয়। পরে তা স্রোতে ভেসে আসে এবং উদ্ধার হয়। কোন কোন পয়েন্ট দিয়ে লাশ ফেলা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নদীর ঘাট, নদীসংলগ্ন মার্কেট ও রাস্তায় সারাক্ষণ গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ঘাটসহ লাশ ফেলার সম্ভাব্য কিছু স্থান চিহ্নিত করে সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।

নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্ষা মৌসুমে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা কমে সাড়ে চার হাজার কিলোমিটারে দাঁড়ায়। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার নৌপথে নিয়মিত নৌযান চলে। এই বিশাল নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নৌ পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, লাশ ফেলার নিরাপদ স্থান হিসেবে নদীপথকে বেছে নিয়েছে পেশাদার অপরাধীরা। ধর্ষণ ও খুনের পর লাশ গুম করতে পরিকল্পিতভাবে ও সুকৌশলে নির্জন স্থান দিয়ে নদীতে ফেলা হয়। এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পরও লাশ গুম করতেও নদী ব্যবহার করা হয়েছে।

অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, অপরাধীরা মনে করে, লাশ ভেসে উঠলেও তাতে পচন ধরবে এবং স্রোতে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যাবে। তখন পরিচয় শনাক্ত হবে না, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে। এ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক তথ্য সংগ্রহ ও মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে। নদীতে লাশ ফেলা ঠেকাতে সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা বসানোর পরামর্শ দেন এই অপরাধবিশেষজ্ঞ।

ইন্টারনেট স্বাধীনতায় বাংলাদেশের উন্নতি, গণমাধ্যম নিয়ে উদ্বেগ। প্রথম আলোর আরেকটি শিরোনাম। এতে বলা হয়, ইন্টারনেটে নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউসের করা ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রিডম হাউসের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ১২ মাসের পরিস্থিতির ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়েছে।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারনেটে নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ১০০ স্কোরের মধ্যে এ বছর বাংলাদেশের স্কোর ৫০। আগের দুই বছরে এই স্কোর ছিল যথাক্রমে ৪০ ও ৪৫। অবশ্য টানা দুই বছর ধরে অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশের নাগরিকেরা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো ‘আংশিক স্বাধীন’।

প্রতিবেদনে ৩৮টি দেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের ৫ পয়েন্ট অগ্রগতির ৪ পয়েন্ট এসেছে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। বাকি ১ পয়েন্ট এসেছে অনলাইন আধেয়র (কনটেন্টে) ওপর বিধিনিষেধ কমার কারণে।
বিশ্বে ইন্টারনেট স্বাধীনতা টানা ১৬তম বছরের মতো কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০১৬ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে পুরো এক বছর ইন্টারনেট ‘শাটডাউনের’ (ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ) ঘটনা ঘটেনি। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও এরপর নেওয়া সংস্কার উদ্যোগকে বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতার অগ্রগতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ফ্রিডম হাউস।
ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বিশ্বের প্রায় ৭১ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘মুক্ত নয়’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। ৩১ শতাংশ ব্যবহারকারী রয়েছেন ‘আংশিক মুক্ত’ শ্রেণিতে। আর মাত্র ৯ দশমিক ১ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মুক্ত ইন্টারনেট পরিবেশে রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯১ স্কোর নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এস্তোনিয়া। চীন, ইরান ও মিয়ানমার ৯ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়ার স্কোর ১৬, পাকিস্তানের ২৭ ও ভারতের ৫০।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো দেশের স্কোর ৭০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে সেটিকে ইন্টারনেটে ‘স্বাধীন’, ৪০ থেকে ৬৯-এর মধ্যে থাকলে সেটিকে ‘আংশিক স্বাধীন’ ও ০ থেকে ৩৯-এর মধ্যে থাকলে দেশটি ‘স্বাধীন নয়’ বলে বিবেচনা করা হয়।

ফ্রিডম হাউস বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী দলের সমাবেশ ও আন্দোলনের সময় প্রায়ই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হতো। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। এসব কারণে দেশটির ইন্টারনেট স্বাধীনতার পরিসর সংকুচিত হয়।
আক্রান্ত প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার
ইন্টারনেট স্বাধীনতার উন্নতি হলেও সাংবাদিকদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফ্রিডম হাউস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের ২৮০ জনের বেশি সাংবাদিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিকেরাও রয়েছেন।

এসব মামলার বেশির ভাগই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই সংবাদগুলোকে আওয়ামী লীগের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল বলে মনে করা হয়েছিল।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও স্বাধীন এ দুই সংবাদমাধ্যমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতপন্থী বলে প্রচার করা হয়। এরপর একদল মানুষ সংবাদমাধ্যম দুটির কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ভবনে আগুন দেয়। এতে সেখানে কর্মরত সাংবাদিকেরা বিপদের মুখে পড়েন। ফ্রিডম হাউস এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপ করা বিধিনিষেধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার কখনো কখনো আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই দমনমূলক কৌশল ব্যবহার করেছে।
নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট স্বাধীনতার অগ্রগতি দেখিয়েছে, কীভাবে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ডিজিটাল দমন-পীড়নের অবসান ঘটিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ফ্রিডম হাউসের মতে, গণ–আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখা এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইত্তেফাক

সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ছাড়লেন ৩ হাজার পর্যটক-আইএসপিআর। ইত্তেফাকের একটি শিরোনাম। এতে বলা হয়, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় সাজেক থেকে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরেছেন ৩ হাজারের বেশি পর্যটক। গতকাল আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাঙামাটি জেলার আওতাধীন সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাজেকে ভ্রমণরত প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।
দ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলাকালে সকাল ১০টায় গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল পর্যটকদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। আলোচনা চলাকালে, বেলা পৌনে ১১টায় ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা আকস্মিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জের মাধ্যমে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং পুনরায় পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আইএসপিআর জানায়, বেলা ১১টায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০-৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পালটা গুলিবর্ষণ করলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবরুদ্ধ পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইউপিডিএফ কর্তৃক উক্ত অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে জানা যায়। স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবরোধে অংশগ্রহণে বাধ্য করা এবং তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মূলত, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যায়। এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সমকাল

দাম্মাম ও রিয়াদে বিমানের সব ফ্লাইট ফের স্থগিত। সমকালের শিরোনাম। এতে বলা হয়, সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আবার স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে দাম্মাম রুটের ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গতকাল বুধবার রাতে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলমান বিমান হামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় রিয়াদ রুটেও ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

যুগান্তর

থার্ড টার্মিনাল চুক্তিতে চাপে বাংলাদেশ: জাপান ছাড়া বিকল্প নেই শর্ত দিচ্ছে ইচ্ছামতো। যুগান্তরের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য ১৬ ডিসেম্বর। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। ঋণের কিস্তিও শুরু হয়েছে। অথচ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কাটেনি অনিশ্চয়তা। উদ্বোধনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে-টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির চেয়ে পরিচালনা চুক্তির জটিলতাই এখন বড় বাধা।
এ অবস্থায় কঠিন চার শর্তে দরকষাকষি আটকে দিয়েছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। পরিচালনায় বিকল্প না রাখায় চূড়ান্ত আলোচনায় দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ। দুই বছরে ২০ দফার বেশি বৈঠক করেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়।

এদিকে উদ্বোধনের দিন কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, তা নিয়েও একমত হতে পারেনি দুপক্ষ। প্রথমদিন অন্তত ১০টি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় বেবিচক। অন্যদিকে, জাপানি পক্ষের প্রস্তাব মাত্র চারটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরু থেকেই বিকল্প অপারেটরের ব্যবস্থা না রাখায় একটি পক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। এতে একের পর এক শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কনসোর্টিয়াম। টার্মিনাল দ্রুত চালু করা জরুরি। তবে তাড়াহুড়ায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নয়। প্রস্তাবের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও শর্তগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দিলে বড় ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় শুরু থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল। তাহলে এখন বড় প্রশ্ন হলো-কেন আমরা একটি মাত্র অপারেটরকে বেছে নিলাম। এটি তো রহস্যজনক এবং মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। সঙ্গতকারণে দরকষাকষিতে দেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির আর্থিক শর্ত, পরিচালন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি দায়বদ্ধতা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল চালু করা জরুরি। তবে দেশের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিশ্চিত না করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা ঠিক হবে না। নেগোসিয়েশনে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার নির্বিঘ্নে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবর। এতে বলা হয়, সব শঙ্কা ও উদ্বেগ পেছনে ফেলে আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও বিদায়ের আবেগঘন পরিবেশে বিজয়াদশমীতে বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন। সারা দেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ছিল ২৫৯টি পূজামণ্ডপ। গত বছরের চেয়ে এবার মণ্ডপের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ বেশি ছিল।

এবারের দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্্যাপনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ উৎসবের পরিবেশে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। পূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা এবং অনুদানের অর্থ বৃদ্ধির বিষয়টিও ছিল আলোচনায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবার কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্্যাপনের বিষয়টিই সামনে চলে আসে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, চুরি ও অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এ কারণে এবারের পূজার আগে দেশের বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, যানবাহনে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে বিশেষ তল্লাশির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

কালের কণ্ঠ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে মিলবে ৬৩৬ কোটি ডলারের বিনিয়োগ। কালের কণ্ঠের শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান থেকে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কোটি ইয়েন (৬৩৬ কোটি ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্পের কারখানা স্থাপন এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে এই বিনিয়োগ আসতে পারে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন শীর্ষ বৈঠককে কেন্দ্র করে এই বিনিয়োগের আয়োজন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেইয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর প্রকাশিতব্য যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ বছরে বেসরকারি বিনিয়োগের এই আয়োজনের কথা উল্লেখ থাকতে পারে। জাপানি প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি কম্পানিগুলোর প্রবেশও এ উদ্যোগের অংশ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ সফরে বাংলাদেশ শুধু বেসরকারি বিনিয়োগ নয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বল্প সুদের ঋণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্বালানি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণেও সহযোগিতা চাইবে।


কালবেলা

হত্যার ভয় নিয়ে বন্দি চার দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার। কালবেলার শিরোনাম। এতে বলা হয়, আল্লাহ আমাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশকে অনেক ধন্যবাদ। বাংলাদেশের মানুষের পুলিশের প্রতি আস্থা রাখা উচিত। চার দিনের বন্দিদশা থেকে ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসান। চোখ ও হাত বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল তাকে। হত্যার ভয়, নির্যাতন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটেছে চারটি দিন। অবশেষে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযানে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ থেকে জীবিত উদ্ধার হন তিনি।

গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুঁইছড়ি প্রেমবাজারে নিজের হার্ডওয়্যারের দোকান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজে বসে ছিলেন হাসান। এ সময় কালো পোশাকের ওপর ‘এসআরবি’ লেখা কটি পরা, মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপধারী চার-পাঁচজন ব্যক্তি দোকানে ঢোকে। নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা হাসানকে হ্যান্ডকাফ পরায়, মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর একের পর এক যানবাহন বদলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজারের দিকে।

হাসান জানান, অপহরণকারীরা তাকে বিভিন্ন বাড়িতে আটকে রেখে হাত ও চোখ বেঁধে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার ভয় দেখানো হয়। পরিবারের সঙ্গে কথা বলানোর সময়ও তাকে হুমকি দেওয়া হতো। মুখে স্কচটেপ থাকায় ঠিকমতো কথা বলার সুযোগ ছিল না। এদিকে অপহরণের পর তার স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তদন্তে নামে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও ডিবির ওসি মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। মুক্তিপণের জন্য ব্যবহৃত নম্বরগুলো ভুয়া ও ভিআইপি হওয়ায় সেগুলোর সূত্র ধরে এগোনো কঠিন ছিল। তাই সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য একত্র করে অপহরণকারীদের চলাচলের পথ শনাক্তের চেষ্টা চালায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাঁশখালী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অপহরণকারীদের চলাচলের তথ্য পাওয়া যায়। তাঁরা প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পরে একটি মাইক্রোবাসে করে ভুক্তভোগীকে নিয়ে যায়। ফুটেজ, স্থানীয় লোকজনের তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় করে আমরা তাদের শনাক্তের চেষ্টা করি।’
এর ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর এলাকার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ছয়জনকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, যাকে এ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি কালো এসআরবি লেখা কটি, দুটি ভুয়া এসআরবি পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়।।

বণিক বার্তা

বণিক বার্তার শিরোনাম— পিএইচপি ত্রুটিতে বিশ্বজুড়ে সাইবার সতর্কতা, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশও।
এই খবরে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান জরুরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও অন্যান্য অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি করেছে সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিজিডি ই-গভ সার্ট।

সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারীদের দ্রুত পিএইচপি-ভিত্তিক সিস্টেম শনাক্ত ও নিরাপত্তা হালনাগাদের পরামর্শ দিয়েছে তারা।

নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে, পিএইচপির দুর্বলতার তথ্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছেছে।