সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আলম শেখ (৪১) মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তিনি রাজধানীর রূপনগরের টিনশেড এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান অয়ন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ১১টার পরে হাসপাতালের ভেতরে জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদ্রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে আলম শেখ শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনরা তাকে শিশু চোর বলে সন্দেহ করেন। শিশুদের স্বজনরা আলম শেখের কাছে হাসপাতালে আসার কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন একদল মানুষ সন্দেহভাজন আলম শেখকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া বলেন, ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে আলম শেখের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। পরিবার জানিয়েছে, আলম শেখ মানসিক ভারসাম্যহীন ও স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি বলেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে আলম শেখ শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনরা তাকে ‘শিশু চোর’ বলে সন্দেহ করেন। শিশুদের স্বজনরা আলম শেখের কাছে তার হাসপাতালে আসার কারণ জানতে চান। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন শিশুদের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে আলম শেখকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। মারধরে ঘটনাস্থলে আলম শেখের মৃত্যু হয়।

শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার মুন বলেন, সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চোরের উৎপাত লক্ষ্য করা যায়।
কাল হঠাৎ করে গভীর রাতে চোর সন্দেহে একজনকে আটক করে কিছু লোকজন। পরে তাকে হাসপাতাল বাউন্ডারির ভেতরে বাতজ্বর ও হৃদ্রোগ কেন্দ্রের সামনে বেঁধে মারধর করলে তার মৃত্যু হয়।