সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদ। আওয়ামী লীগ জমানায় ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি বার বার আলোচনায় এসেছেন। তবে দু’টি ঘটনায় তিনি বেশি আলোচনায় আসেন। প্রথম ঘটনা ২০২৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর। গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই। পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কামাল আহমদের বাড়ি জৈন্তাপুরে। কমলাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ভাইকে নিয়ে তিনি ভারত পাড়ি দেয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছিলেন। ওই সময় জনতার হাতে মব-এর শিকার হন। পরে অবৈধ পথে ভারত পাড়ি দেয়ার অভিযোগে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে সিলেটের একাধিক থানায় মামলা ছিল।
গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ভারত পাড়ি দিচ্ছিলেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। আটকের পর বিজিবি কামাল আহমদকে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। জৈন্তাপুরে কোনো মামলা না থাকায় ওই বছরের ৮ই সেপ্টেম্বর তাকে জালালাবাদ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। কয়েক মাস জেলে ছিলেন কামাল আহমদ। এরপর জামিন নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। নিজ এলাকায়ই অবস্থান করছিলেন। ছিলেন অন্তরালেও। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার। কামাল আহমদের দিকে নজর ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় তার পাসপোর্টও ব্লক করে দেয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি চিকিৎসার কথা বলে ভারতের ভিসা নেন কামাল আহমদ। এবার বৈধ পথে ভারতে যেতে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুপুরে যান সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশনে। সেখানে পাসপোর্ট শো করার পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দেখেন পাসপোর্ট ব্লক করে দেয়া। এতে সন্দেহ হয় তাদের। প্রাথমিকভাবে তারা জিজ্ঞাসাবাদের পর জানতে পারেন তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। ইমিগ্রেশন পুলিশের তরফ থেকে তখন ডাকা হয় জৈন্তাপুর থানা পুলিশকে। দুপুরে জৈন্তাপুর পুলিশ গিয়ে কামাল আহমদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ ইমিগ্রেশনে আটকের খবর শুনে সেখানে ছুটে যান জাফলংয়ের স্থানীয় সাংবাদিকরা। এ সময় তারা ভিডিও ও ছবি তোলার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- চিকিৎসার জন্য কামাল আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ভারত যাচ্ছিলেন। বৈধভাবে ভিসা সংগ্রহ করে তারা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যেতে চাইলে আটকে দেয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন- কামাল আহমদ অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তিনি ভারত যেতে চাচ্ছিলেন।
এর আগেও একাধিকবার তিনি ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছিলেন। তামাবিল ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- পাসপোর্ট ব্লক থাকার কারণে সন্দেহজনক ভাবে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা থানা পুলিশ গ্রহণ করবে। জৈন্তাপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন- গত মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে বিকালে সিলেটের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন- জৈন্তাপুরে আলু বাগান এলাকায় গত ২৭শে সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। স্থানীয় আলু বাগান এলাকায় মিছিল করার দায়ে থানা পুলিশ এ মামলা করেছিল। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন কামাল আহমদ।
