নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে শিয়ালের কামড়ে এক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে আহত ব্যক্তিরা বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ক্ষত গভীর হওয়ায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার পাশাপাশি র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সামিউল হাসান সৌমিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগেই প্রথম রোগী হাসপাতালে আসেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে ১৩ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালের মজুত থেকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে। তবে যাদের ক্ষত গভীর এবং রক্তপাত হয়েছে, তাদের কয়েকজনকে অতিরিক্ত র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন কিনে নিতে হয়েছে। আহত মোহাম্মদ ইমরান আলী পূর্ব সোনাপাতিল এলাকার বাসিন্দা।
তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি থেকে একটি সেন্টারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি শিয়াল তাকে কামড় দেয়। পরে হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, তার আগে আরও অনেকে একই ধরনের আঘাত নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। বারইপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ মারুফ হোসেন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মূল সড়কের পাশে একটি শিয়াল তার হাতে কামড় দেয়। অন্যদিকে, নৌরশেরা থেকে বিহারকোলের দিকে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিও সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে শিয়ালের কামড়ের শিকার হন বলে জানান।
চিকিৎসক সামিউল হাসান সৌমিক বলেন, শিয়াল বা অন্য কোনো প্রাণী কামড়ালে ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর দেরি না করে হাসপাতালে আসতে হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার মজুত রয়েছে। তাই প্রাণীর কামড়ের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া জরুরি। এদিকে, একসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শিয়ালের আক্রমণের ঘটনায় জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে শিশুদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন এবং শিয়াল বা অন্য কোনো প্রাণীকে উত্ত্যক্ত না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
