বরগুনার পাথরঘাটায় কাঁঠালতলী ইউনিয়নের কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবেক উপজেলা জামায়াত আমীর মো. শামীম আহসানের ওপর হামলা, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির ভাগনে ইব্রাহীম খলিল নয়নসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে মামলায় আসামির সংখ্যা ১৬ বলে জানা গেছে।
গত ২০শে অক্টোবর রাতে শামীম আহসানের স্ত্রী ওজিফা আক্তার বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা ৮ জনকে বিএনপি’র কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ই অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কিরণপুর মাদ্রাসার কাছে শামীম আহসানের পথরোধ করেন মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহীম খলিল নয়ন। এ সময় তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। টাকা দিলে নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে পারবেন বলে তাকে জানানো হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শামীম আহসান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। চাঁদাদাবির দুইদিন পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৫ই অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে কেরামতপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে শামীম আহসানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। এ সময় ইব্রাহীম খলিল নয়নের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, স্টিলের টেলিস্কোপিক ব্যাটন, জিআই পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা শামীম আহসানের বুক, মাথা, দুই হাত ও পায়ে আঘাত করেন। এতে তার ডান হাতের দু’টি হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০শে এপ্রিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শামীম আহসান হামলার শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায়ও চিফ হুইপের ভাগনে ইব্রাহীম খলিল নয়নের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে মারধর করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়েছে।
