চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যানসহ ছিনতাই হওয়া চিনির ১৩৪ বস্তা মিললো বান্দরবানে

চট্টগ্রামে কাভার্ডভ্যানসহ ছিনতাই হওয়া চিনির ১৩৪ বস্তা মিললো বান্দরবানে

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ছিনতাই হওয়া চিনিবোঝাই কাভার্ডভ্যানের ১৩৪ বস্তা চিনি বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের চাম্বি মফিজ বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পটিয়া থানা পুলিশ ও আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়। এর আগে কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে থেকে ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, মেঘনাঘাটের মেঘনা সুগার মিল থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের জন্য ২৮টন চিনি নিয়ে যশোর-ট-১১-৪৬৫৭ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ২০শে অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকার ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি খালাস করা হয়। বাকি ১৫ টন চিনি নিয়ে কাভার্ডভ্যানটির পটিয়ার নাইখাইন এলাকার ফুলকলি কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল।

কাভার্ডভ্যানটির স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে চালক আলমগীরের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন চালক জানায়, গাড়ির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় মইজ্যারটেক এলাকায় সেটি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ত্রুটি সারিয়ে পটিয়ার কারখানায় যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে বুধবার সকাল ৯টার দিকে অন্য এক চালক ফোন করে আলমগীরকে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা জানায়। পুলিশ জানায়, বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার মনসা বাদামতল এলাকা থেকে চালক আলমগীর (৪৫)কে অচেতন ও অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন অন্য চালকেরা। পরে তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চালকের দাবি, তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে অচেতন করা হয়েছিল। এ সময় ১৫ টন চিনিসহ কাভার্ডভ্যানটি ছিনতাই করা হয়। ছিনতাই হওয়া চিনির আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ টাকা। কাভার্ডভ্যানটির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এদিকে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং-সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কের নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে থেকে কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

চিনি সরবরাহকারী ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাসিরাবাদ কারখানায় চিনি খালাসের পর চালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি গাড়ির বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান এবং নানা অজুহাত দেখান। সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার পর তারা পটিয়া থানায় যোগাযোগ করেন। জেলা পুলিশ সুপারও থানায় গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম বলেন, আজিজনগর বাজারের কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক মানবজমিনকে বলেন, ‘আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আপাতত কর্ণফুলী থেকে কাভার্ডভ্যান এবং বান্দরবান থেকে কিছু চিনি উদ্ধার করা গেছে। বাকি চিনিও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ছিনতাই ও চোরাই মালামালের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’