ভোরের হিমেল হাওয়া আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ঋতুবদলের এই সময়ে নাটোরের লালপুরে খেজুরগাছ ঘিরে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন প্রায় আড়াই হাজার গাছি। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে রসের প্রবাহ, সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে শীতের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। লালপুরে খেজুরের রস ও গুড়ের এই মৌসুমি আয়োজন শুধু গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৫টি খেজুরগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার ২১০ দশমিক ৫ টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য প্রায় ৬৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। কৃষ্ণরামপুর গ্রামের গাছি নজরুল ইসলাম (৪৪) জানান, ৩০ বছর ধরে তিনি খেজুরের রস সংগ্রহ করেন। এ বছর দেড়শ’টি গাছ প্রস্তুত করেছেন।
প্রতিটি গাছ প্রস্তুতে প্রায় ২৫০ টাকা করে খরচ হয়েছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে। তবে পুরোদমে উৎপাদন পেতে পৌষ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় মানবজমিনকে জানান, লালপুরে রেললাইনের পাশে, ফসলি জমির আইলে ও পতিত জমিতে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য খেজুরগাছ। শীত মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন গাছিরা। সঠিকভাবে গাছ প্রস্তুত করতে পারলে মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছের রস থেকে প্রায় ২৫ কেজি পর্যন্ত গুড় পাওয়া যায়। গাছিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুনজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, খেজুরের রস সংগ্রহে স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাদুড়ের মাধ্যমে খেজুরের কাঁচা রসে নিপাহ ভাইরাস ছড়াতে পারে। এ জন্য রস সংগ্রহের পাত্রের মুখ ঢেকে রাখা ও বাদুড়ের সংস্পর্শ থেকে রস সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে গাছিদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। এদিকে খেজুরের গুড়ের সুনাম ধরে রাখতে উৎপাদন ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায় ভেজালমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
