রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে আলুর উৎপাদন। কিন্তু মৌসুমে আলুর দাম না পাওয়ায় প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রংপুরে নেই পর্যাপ্ত হিমাগার। গত মৌসুমে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার টনের বেশি আলু উৎপাদন হলেও হিমাগারে রাখার সুযোগ হয়েছে মাত্র ২৩ শতাংশের মতো। এ ছাড়াও চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদনও ক্ষতির কারণ হয়েছে কৃষকদের। গত মৌসুমে হিামাগারে রাখা আলুর মধ্যে এখনো ৭০ শতাংশ আলু আটকে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ টন। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টরে ২৮ লাখ ৫৪ হাজার ২০৩ টন এবং দিনাজপুর অঞ্চলে ৯১ হাজার ৭৩১ হেক্টরে ২৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮৪ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে। এর মধ্যে কেজিপ্রতি প্রায় ৭ টাকা হিমাগার ভাড়া দিতে হচ্ছে।
ফলে আলু বিক্রি করে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকা। অন্যদিকে হিমাগারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১৬ থেকে ১৮ টাকা। ফলে বর্তমান দরে বিক্রি করলে কেজিপ্রতি কৃষকের লোকসান হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১১ টাকা। মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম না থাকায় প্রায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে কেজিতে ৮ থেকে ৯ টাকা লোকসানে আলু বিক্রি করতে হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, বিভাগের মোট উৎপাদনকে ভিত্তি ধরে কেজিপ্রতি ১০ টাকা লোকসান হলে সম্ভাব্য লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ১৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকার কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, আগাম আলু চাষ শুরু হয়ে গেছে। এদিকে আমরা গত বছরের আলুই এখনো বিক্রি করতে পারিনি। ভালো দাম নেই। এখন আলু চাষ মানেই ক্ষতি।
কৃষক রাজকুমার সরকার বলেন, কৃষি বিভাগ যদি আমাদের মাঠপর্যায়ে এসে লাভজনক ফসল আবাদ নিয়ে প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা তৈরি করে দিতো তাহলে আমরা অনেক কৃষক পুরনো ও অভ্যস্ত এ আলু চাষ থেকে বেরিয়ে লাভজনক ফসল আবাদের দিকে ঝুঁকতে পারতাম। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছর ধরে আলুতে লোকসানের কারণ হচ্ছে চাষিরা পরিকল্পিতভাবে আলু চাষ করছে না। উৎপাদনটা চাহিদার তুলনায় কয়েকগুন। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি শস্যবিন্যাস ভিত্তিক চাষাবাদ করার। শুধু আলু না করে কিছু জমিতে ভুট্টা, সবজি, ধান করার। যাতে একটাতে লোকসান হলে অন্যটাতে পোষাতে পারে। কিন্তু কৃষকদের আলু চাষাবাদ নেশার মতো হয়েছে গেছে।
