দুই যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেলফী পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সকালে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরংগাইলে সেলফী পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হন। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। সেলফী পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। তাদের দাবি, মহাসড়কে সেলফী পরিবহনের চলাচল বন্ধ করতে হবে। তাদের দাবির মুখে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলায় সেলফী পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা। নিহতরা হলেন ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের শাহিনের ছেলে ইয়াছিন (২০) ও একই গ্রামের মোজাহারের ছেলে বাবুল (৩০)। দুর্ঘটনায় ইজিবাইক চালক গুরুতর আহত হন।
জানা যায়, মৌহালী থেকে বরংগাইল হাটের দিকে যাচ্ছিল ইজিবাইকটি। পথে ইউটার্ন নেয়ার সময় পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা সেলফী পরিবহনের একটি বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইয়াছিনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত বাবুলকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আহত চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসটি ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সেলফী পরিবহনের বিরুদ্ধে একাধিকবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে সেলফীর দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আটকানো গাড়ি প্রশাসনের কাছে নয়, নিজেদের জিম্মায় নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। পরে জেলা প্রশাসক ভিডিওবার্তায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলায় সেলফী পরিবহনের সকল বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানান।
জেলা প্রশাসক মানবজমিনকে বলেন, সেলফী পরিবহন নিয়ে ইতিপূর্বে দুইবার সভা হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষকে কিছু বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হলেও তা না মেনে বাস চালানো হচ্ছে। সেলফী পরিবহনের ৬৪টি রুট পারমিটের বিপরীতে ১৭০টি বাস কীভাবে চলাচল করছে এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক জানান, বিষয়টি বিআরটিএকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ছাত্র-জনতার অভিযোগ, সেলফী পরিবহনের চালকদের কেউ কেউ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালায় এবং অনেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তারা এ রুটে চলাচলকারী সব যানবাহন চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানান। পরে জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
