গত সাত বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। সড়ক ও পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণে শিশুরা সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্বেগজনক মাত্রায় হতাহত হচ্ছে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া, পথচারী হিসেবে রাস্তা পারাপার ও হাঁটার সময় যানবাহনের ধাক্কায় ২ হাজার ৮১২ জন এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২ হাজার ১৯৩ জন শিশুর প্রাণ গেছে।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীর সংখ্যাই বেশি- ৩ হাজার ৫৪৭ জন। এ ছাড়া, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ জন এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৫১৩ জন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে এবং ৯৬২ জন বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রামীণ সড়কে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২ জন, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ জন এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে বিকালের দিকে। এরপর সকালে ২৭ দশমিক ২২ এবং দুপুরে ২২ দশমিক ৭৬ শতাংশ শিশু দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, শিশুদের নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাব, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক দিয়ে গাড়ি চালানো এবং আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবই শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। সংস্থাটির মতে, গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা হওয়ায় এবং যানবাহনগুলো কোনো নিয়মনীতি না মানায় সেখানে হতাহতের সংখ্যা বেশি। শিশু মৃত্যুর এই হার রোধে অবিলম্বে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়ন, অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সড়ককে শিশুদের জন্য নিরাপদ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
