শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোটগ্রহণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে: আইজিপি

ফন্ট সাইজ:

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবার নির্বাচনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
আইজিপি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। তিনি বলেন, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। আইজিপি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন।
আইজিপি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করার লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। এর প্রেক্ষিতে বৈধ ২৭ হাজার ৯৯৫টি অস্ত্র জমা নেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে যেন ভোটগ্রহণ হয় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, যেকোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ১১ই ডিসেম্বর থেকে ৯ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। আইজিপি বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবে বাস্তবতায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত চলছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ৫ই আগস্টে জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময়ে কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই। আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতোটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন একেএম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন); মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ); মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) ও সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট)।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন