পাঁচদিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব আর সম্প্রীতির মিলনমেলা শেষে বিদায়ের সুর। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার দুপুর ২টা থেকে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। ঢাকঢোলের বাদ্য, উলুধ্বনি আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেন ভক্তরা। এ সময় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ছিল বিদায়ের আবেগঘন পরিবেশ।
নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় পতেঙ্গা সৈকতে। বিসর্জন দেখতে সেখানে ভিড় করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করা হয়। পতেঙ্গা ছাড়াও কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট, অভয়মিত্র ঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের জন্য পূজার্থীরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে পতেঙ্গায় এসেছেন। পূজা উদ্যাপন পরিষদের কর্মীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিমা নিয়ে আসার পথে পূজার্থীরা যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসন সহযোগিতা করেছে। প্রতিমা বিসর্জনের আগে বিকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সভায় মেয়র বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও রাষ্ট্রে সবার অধিকার সমান। হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ও খ্রিস্টানÑসব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যায়ভাবে কারও জমি দখল করলে কিংবা কারও সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করলে তাকে জানানোর আহ্বান জানান মেয়র। এ ধরনের সমস্যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দরজা সবার জন্য খোলা থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মেয়র আরও বলেন, কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাদের পরিবারের ছেলে-মেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন জানান, প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়। শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এ বছর চট্টগ্রাম নগরের ১৬টি থানায় ২৯৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। নগরের প্রধান পূজামণ্ডপ ছিল রহমতগঞ্জের জে এম সেন হল। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় ২ হাজার ২৭৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৫৫টিতে সার্বজনীন প্রতিমাপূজা এবং ৬১৯টিতে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
