বাঁশখালী থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নেয়ার ৪ দিন পর টেকনাফে উদ্ধার

বাঁশখালী থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নেয়ার ৪ দিন পর টেকনাফে উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নেয়ার চারদিন পর মোহাম্মদ এহসান ওরফে হাসান (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এসআরবি’র পরিচয়ে ব্যবহৃত পোশাক ও পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী লেদা ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসানকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারে অবস্থিত মেসার্স আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে হাসানকে তুলে নিয়ে যায় চার ব্যক্তি। এসআরবি সদস্য পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তিরা তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন ভুয়া এসআরবি পোশাক পরে মাথায় টুপি ও মুখে মাস্ক লাগিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন। এ সময় অপর দু’জন বাইরে অবস্থান করছিলেন। হাসানকে প্রথমে পুঁইছড়ির প্রেমবাজার থেকে অটোরিকশায় করে পেকুয়ার টৈটং হাজীবাজার এলাকায় নেয়া হয়। পরে চকরিয়া থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণকারীরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। ঘটনার পর বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হাসানের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া হাসান বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের তেলিয়াকাটা গ্রামের হাজী নুরুল কবিরের মেজো ছেলে।

তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মোজাম্বিকে টানা ১২ বছর ব্যবসা করেছেন। দুই বছর আগে দেশে ফিরে এলাকায় চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন। সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবহৃত পোশাক ও পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চক্রটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিপণ আদায় করা। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।