গাইবান্ধার সাঘাটাসহ জেলার গ্রামীণ ডাকঘরগুলোর অবস্থা নাজুক। কোথাও বসতবাড়ির এক কোণে, কোথাও কাপড়ের দোকানে, আবার কোথাও নামমাত্র জায়গায় চলছে সরকারি এ সেবা। নেই নিজস্ব ভবন, চেয়ার-টেবিল কিংবা সেবাগ্রহীতাদের বসার ব্যবস্থা। জেলা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১১৪টি গ্রামীণ ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জের ডাকঘরগুলো জয়পুরহাটের অধীনে। বাকি ছয় উপজেলা গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরের অধীনে। এর মধ্যে পলাশবাড়ীতে ২১টি, সুন্দরগঞ্জে ১২টি, ফুলছড়িতে ২টি, বোনারপাড়ার অধীনে ৫টি, নলডাঙ্গায় ৭টি, বামনডাঙ্গায় ১৬টি, ভরতখালীতে ৩টি, সাঘাটায় ৪টি এবং সাদুল্লাপুরে ৯টি গ্রামীণ ডাকঘর রয়েছে। সরজমিন দেখা যায়, বেশির ভাগ ডাকঘর চলছে ব্যক্তিগত বা ভাড়া করা জায়গায়।
বসতবাড়ির একটি রুমেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। কোথাও আবার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই জায়গায় ডাক বিলি করা হচ্ছে। ফলে কর্মীরা যেমন ভোগান্তিতে, তেমনি সেবা নিতে এসে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। চকদাতেয়া গ্রামীণ ডাকঘরের ডাকপিয়ন আমজাদ বলেন, মাত্র ৩৩৫ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছি। আশায় আশায় আছি, কবে জাতীয়করণ হবে। এত বছরেও ভাগ্য বদলায়নি। উল্ল্যা সোনাতলা গ্রামীণ ডাকঘরের পোস্টমাস্টার হাসান বলেন, আমরা অল্প বেতনে চাকরি করছি। আমাদের খোঁজ কে রাখে? প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, চিঠিপত্র কমলেও অনেক কাজ এখনো পোস্ট অফিসের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু সময়মতো সেবা পাওয়া যায় না।
গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরের পরিদর্শক এমএ মনিরুজ্জামান বলেন, জেলায় ১০টি বিভাগীয় ডাকঘরের নিজস্ব ভবন আছে। ভবানীগঞ্জসহ কয়েকটির নিজস্ব ভবন রয়েছে। তবে গ্রামীণ ডাকঘরগুলোর অবস্থা নাজুক। পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, ডাক বিভাগের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের গ্রামীণ কার্যালয় আধুনিক ও জনবান্ধব করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত নিজস্ব ভবন নির্মাণ, আসবাব সরবরাহ ও কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানান তারা।
