নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের অগ্রগতি ও সংকট’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথি ও বক্তারা। গত ১৬ অক্টোবর প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের সাবেক সিনেটর-অ্যাট-লার্জ শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়া। সভায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে তার দায়িত্ব পালনকালের অভিজ্ঞতা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। তার বক্তব্যে শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিচার ও জবাবদিহিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ আইনি সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রধান অতিথি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন। অংশগ্রহণকারীরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ও ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিশেষ অতিথি শোয়াইব আহমেদ ভূঁইয়া প্রবাসীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিরোধে আমাদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের উদ্যোক্তা আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. জুন্নুন চৌধুরী, সোহেল হামিদ, আজিজুর রহমান, ড. শেখ মিজানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ ছাড়া প্রখ্যাত লেখক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যান্ড সঙ্গীত শিল্পী বিপ্লব, সাংবাদিক কাজী শামসুল হক, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এসএম রহমতুল্লাহসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটির সমন্বয়ে ছিল ‘Institute for Global Policy and Diplomacy’ (IGPD)। আয়োজকরা জানান, প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ একটি অ্যাডভোকেসিভিত্তিক সংগঠন, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন গঠনমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
