ভোলার চরফ্যাশনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দিন-রাত চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। নিষিদ্ধ সময়ে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় অবাধে ইলিশ শিকার করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় হচ্ছে। এসব কর্মে রয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মালিকপক্ষ ও স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কিছু অসাধু লোকজন। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। প্রকাশ্যে হাঁকডাক দিয়ে ইলিশ বিক্রি করছে তারা। সিংহ ভাগ মাছ পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। দেশের যেখানে যাচ্ছে মাছ সেখান থেকেই আসছে বরফ। এই বিনিময়ের মাধ্যমে মেঘনা তেঁতুলিয়ার মাছ শিকারে মেতে উঠেছে জেলেরা।
এসব অপকর্ম স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকায়। মাঝেমধ্যে দায়সারা অভিযানে যাচ্ছে প্রশাসন। তবে এরই মধ্যে পৃথক ঘটনায় প্রায় আট বস্তা মা ইলিশ জব্দ করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ এবং বরফভর্তি একটি গাড়ি আটক করে শশীভূষণ থানা পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের লোককে কল দিলে তারা কল রিসিভ করে না। করলেও পাত্তা দিচ্ছে না। রোববার গভীর রাতে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খেজুড়গাছিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিধন করা মা ইলিশ পাচারের উদ্দেশ্যে বরফভর্তি গাড়ি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
সোমবার সকালে কুকরি-মুকরি থেকে আসা প্রায় আট বস্তা ইলিশ জব্দ করে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ। তবে এমন ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনার কুকরি-মুকরির দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মা ইলিশ শিকার চলছে। স্পিডবোটে গলাচিপা হয়ে বিভিন্ন স্থানে ইলিশ পাচার করা হচ্ছে। ?স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বে নিয়োজিত মৎস্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই একটি অসাধু চক্র নিয়মিত নদী থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে বিভিন্ন জেলায় পাচার করছে।
সামরাজ মৎস্য ঘাটের জেলেদের অনেকে জানায়, ইচ্ছামতো সুযোগ বুঝে প্রতি রাতে কিছু ট্রলার চলে যায় মেঘনা-তেঁতুলিয়ায়। এদেরকে শেল্টার দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ট্রলার মালিক। শুধু তাই নয়, তেঁতুলিয়া পাড়ের বেশ কিছু জেলে ও মালিকপক্ষরা জানায়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তারা নদীতে যাচ্ছে না। অথচ একটি চক্র প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন মাছ শিকারে যাচ্ছে। সামরাজ মৎস্য ঘাট, নতুন স্লুুইস মৎস্য ঘাট, লালমোহন ও চরফ্যাশন সীমান্তবর্তী বেতুয়া স্লুইস মৎস্য ঘাটসহ বেশ কিছু খালে অবস্থানরত আছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এসব ট্রলারে হাজার হাজার বরফ ক্যান রয়েছে। প্রতি রাতে সুযোগ বুঝে তারা মেঘনা তেঁতুলিয়ায় মাছ শিকারে যায়। এদেরকে সুযোগ করে দেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এসব বিষয় জানতে একাধিকবার ফোন করেও কল রিসিভ না করায় মৎস্য বিভাগের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে এলাকাটিতে প্রশাসনের অভিযান জোরদার এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
