আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পেছনেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এর ব্যতিক্রম ঘটিয়ে কেউ যদি দলের স্বার্থের বিপক্ষে দাঁড়ায়, তবে তিনি দল থেকেই ছিটকে পড়বেন। মঙ্গলবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নির্দিষ্ট ফর্মুলা দেবেন যে কীভাবে মাঠে কাজ করতে হবে।
সেই সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই। দলের ভেতরে থেকে যারা মুনাফিকি করবেন বা সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না। তৃণমূলের প্রার্থী নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি ইউনিয়নের সার্বিক রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সরাসরি দলীয় হাইকমান্ডের নজরদারিতে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল কেবল ‘উইনিং ক্যান্ডিডেট’ বা বিজয়ী হওয়ার মতো জনপ্রিয় প্রার্থীকেই মূল্যায়ন করবে। দলের যত বড় নেতাই হোন না কেন, যদি তার পরাজয়ের শঙ্কা থাকে, তবে তাকে কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। রাজনীতিতে দলীয় বিজয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান আরও বলেন, আমার দল যদি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনে বা শক্ত অবস্থানে না থাকে, তবে ব্যক্তি হিসেবে আমি কত বড় নেতা বা কত ভালো মানুষ-তাতে কিছুই যায়-আসে না। দল আমার কাছে সবচেয়ে বড় আমানত।
ব্যক্তিগত পছন্দের লোক বানিয়ে প্রার্থী দিলেন, অথচ সে ভোটে জিততে পারলো না-এমন অপকৌশল দল সহ্য করবে না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, আমরা সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি দেখা যায় আপনি দলীয় ঐক্যের তোয়াক্কা না করে বিকল্প কিছু করছেন বা বেইমানি করছেন, তবে আমারও আইনি ও রাজনৈতিক অধিকার থাকবে আপনাকে থামানোর। এর পর সারা দিন শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
